হত্যা মামলার আসামিকে ওমান থেকে ধরে নিয়ে আসলেন ডিবি

0
473
হত্যা মামলার আসামিকে ওমান থেকে ধরে নিয়ে আসলেন ডিবি
হত্যা মামলার আসামিকে ওমান থেকে ধরে নিয়ে আসলেন ডিবি

রাজধানীর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম (টিপু) হত্যার সন্দেহভাজন মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা সুমন শিকদার ওরফে মুসা এখন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কব্জায়। বৃহস্পতিবার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে ওমান থেকে মুসাকে ফিরিয়ে আনা হয়। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটে মুসাকে সঙ্গে নিয়ে অবতরণ করেন এনসিবি ডেক্স ও মতিঝিল ডিবির একটি টিম। ডিবির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আজই (বৃহস্পতিবার) আদালতে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হত্যাকা-ের মাস্টারমাইন্ড ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী মুসা ডিবি কব্জায় চলে আসায় এই হত্যাকা-ের রহস্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তারা। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই ভয়ঙ্কর আলোচিত খুনের নেপথ্য নাটের গুরুদের নাম উঠে আসবে। আন্ডারওয়ার্ল্ডে তিনি শুটার মুসা নামে পরিচিত।

এদিকে পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ওমানে গ্রেফতার মুসাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে নিয়ে আসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটে মুসাকে সঙ্গে নিয়ে অবতরণ করেন এনসিবি ডেক্স ও মতিঝিল ডিবির একটি টিম। পরে পুলিশ দফতরের এনসিবি ডেক্সের টিম তদন্তকারী সংস্থা ডিবি পুলিশের কাছে মুসা হস্তান্তর করে। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জানান, সকালে ওই ফ্লাইট চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় এলেও খারাপ আবহাওয়ায় নামতে না পেরে আবার চট্টগ্রামে ফিরে গিয়েছিল। পরে আবহাওয়া ভাল হওয়ায় বিকেলে তাকে ঢাকায় আনা হয়।

অপরদিকে টিপু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও অভিযানের নেতৃত্বদানকারী গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহিদুর রহমান রিপন ওমান থেকে মুসাকে দেশে ফিরিয়ে আনার নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে আরও ছিলেন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দীন।

জোড়া খুনের তদন্তকারীর প্রধান মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহিদুর রহমান রিপন জনকণ্ঠকে জানান, বিমান বন্দর থেকে বিকেল ৪টার দিকে জোড়া হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী মুসাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এডিসি শাহিদুর রহমান জানান, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি ডেক্স দুবাই পুলিশের মাধ্যমে মুসাকে আটকের চেষ্টা শুরু করে। বিষয়টি টের পেয়ে দুবাই থেকে ওমানে চলে যান তিনি। পরে ওমান পুলিশের মাধ্যমে মুসাকে শনাক্ত করে আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সকালে তাকে দেশে ফেরত আনা হয়। তিনি জানান, আলোচিত এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সঙ্গে মূল পরিকল্পনাকারী মুসার নাম যোগ হলো। এর আগে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধায়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তাদের মধ্যে শুটার মাসুমের জবানবন্দীতে হত্যার পরিকল্পনায় মুসার নাম উঠে আসে। টিপু হত্যা মিশনের সব ঠিকঠাক করে গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিলেন মুসা। আন্ডারওয়ার্ল্ডে তিনি শুটার মুসা নামে পরিচিত। জোড়া খুনের তদন্তে তার নাম আসার পরই নড়েচড়ে বসেছিলেন গোয়েন্দারা।

অন্যদিকে ওমানে মুসা গ্রেফতারের পর রাজধানীর মতিঝিল ও কমলাপুরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা ও ঠিকাদাররা স্বস্তিতে আছেন। জনকণ্ঠ থেকে