হবিগঞ্জে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে শতকোটি টাকার মাছ

0
437
হবিগঞ্জে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে শতকোটি টাকার মাছ
হবিগঞ্জে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে শতকোটি টাকার মাছ


নূরুজ্জামান ফারুকী,বিশেষ  প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কুশিয়ারাসহ নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার সাতটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামছে। তবে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাত হাজার ৯০১টি মৎস্য খামার। এ অবস্থায় মৎস্য খামারিদের ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।

নবীগঞ্জ উপজেলার বৈলাকীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. অলিউর রহমান জানান, তিনি ছোট-বড় ২০টি পুকুর লিজ নিয়ে মাছের খামার করেছিলেন। লিজ বাবদ এক বছরের জন্য দিতে হয়েছে ১২ লাখ টাকা। মাছ, পোনা, খাবার ও শ্রমিক ব্যয় বাবদ আরও ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে তার ৬০ লাখের বেশি ব্যয় হয়েছে। বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে।

তিনি  বলেন, ‘এখন আমি প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছি। সহযোগিতা বা প্রণোদনা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। ঈদ আনন্দের কথা তো চিন্তাও করতে পারি না।’

লাখাই উপজেলার আবুল কাশেম জানান, এ উপজেলায় কয়েকশ খামারের মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় কী করবেন তারা ভেবে পাচ্ছেন না। খামারিদের মাথায় হাত উঠেছে।

মাছচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘লাখাই উপজেলার প্রায় ১ হাজার পুকুর পানিতে ডুবে গেছে। আকস্মিক বন্যা হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। মানুষ প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পাননি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, জেলার ছয়টি উপজেলায় মাছচাষ হয়। এসব উপজেলায় বন্যায় মাছচাষিদের তা প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক চাষিই নিঃস্ব হয়ে গেছেন। সরকারি সহযোগিতা বা স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হলে তারা হয়তো ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। তাদের পুনর্বাসন না করলে অনেকেই মৎস্য চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সদরে ৬০২টি, লাখাইয়ে ৪৯৮টি, নবীগঞ্জে ১৪০০টি, আজমিরীগঞ্জে ৭৩৮টি, বানিয়াচংয়ে ২৯০০টি, বাহুবলে ৫৩৮টি, মাধবপুরে ১২২৫টি পুকুর বা খামার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫১০৩ মেট্রিক টন মাছ ও ১১১৬ মেট্রিক টন পোনা ভেসে গেছে। যার বাজারমূল্য ১০০ কোটি ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৮৫৩ জন খামারি।

মাছচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার লাখাই, বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলায় হঠাৎ করেই বন্যা চলে আসে। ফলে খামারিরা মাছ সংরক্ষণের জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে খামার ডুবে পানিতে মাছ ভেসে গেছে। অনেকে আবার জাল দিয়ে মাছ আটকানোর চেষ্টা করলেও তেমন কোনো ফল পাননি