হবিগঞ্জ হাওরে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে আধাপাকা ধান!

0
385
হবিগঞ্জ হাওরে পানিতে তলিয়ে গেছে আধাপাকা ধান
পানিতে ধান কাটছে এক কৃষক

নূরুজ্জামান ফারুকী, বিশেষ  প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় কালনী ও মেঘনা নদীর পানি ঢুকে তিনটি হাওরের শতাধিক হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। আর দুইদিন এভাবে পানি বাড়লে প্রায় তিন হাজার হেক্টর বোরো জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।কৃষকরা এ পরিস্থিতিতে আধাপাকা কাটা শুরু করেছেন।

উপজেলার ১নং লাখাই ইউনিয়নে অবস্থিত মেঘনা ও কালনী নদী সরাসরি হাওরের সঙ্গে যুক্ত। ফসল রক্ষা বাঁধ না থাকায় গত দুইদিন ধরে নদীর পানি হাওরে ঢুকছে। ১৮ এপ্রিল সোমবার দিনভর ঘুরে এলাকার এই অবস্থা দেখা যায়। এতে ইউনিয়নটির শিবপুর, সুজনপুর ও বারচর হাওরের শতাধিক হেক্টর জমির আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাখাইয়ে এ বছর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ২০০ হেক্টরে। এর মধ্যে শুধু লাখাই ইউনিয়নে হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ হেক্টরে। কিছু জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান প্রায় ৬০ শতাংশ পেকেছে। তবে বেশিরভাগ জমির ধান অর্ধেকও পাকেনি। হাওরগুলোতে এখন ধানের শীষ ডুবুডুবু অবস্থায়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ৭০ হেক্টর বোরো জমি পুরোপুরিভাবে তলিয়ে গেছে বলে তারা তালিকা করেছেন। আগামী দুই দিন এভাবে পানি বাড়লে কমপক্ষে আরও ৫০০ হেক্টর জমি তলিয়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, হাওরের সঙ্গে নদী সরাসরি যুক্ত হওয়ায় পানি বেশি ঢুকছে। হাওরের কিছু ধান প্রায় ৬০ শতাংশ পেকেছে। অনেক স্থানে অর্ধেকও পাকেনি। অনেক কৃষক আঁধাপাকা প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ধান ঘরে তুলেছেন। এখনও বাকি ৩ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে। তবে কিছু ধান কাঁচা থাকতেই কৃষকদেরকে কাটার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অনেক তা করছেনও।

এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, লাখাই ইউনিয়নের বোরো জমিগুলো তুলনামূলক নিচে। পরিদর্শনে দেখিছি ধানগাছগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায় যায় অবস্থায়। এ অবস্থায় দ্রুত ধান কাটার জন্য সব কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।