হরতালসহ পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক নবীগঞ্জে

    0
    218

    আমারসিলেট24ডটকম,নভেম্বর,তফিদুর রহমান তালুকদারঃ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি ভূমি নিয়ে বিরোধ ও শালিশ বোর্ড অমান্য করে এক পক্ষ পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্মান কাজ করা এবং নবীগঞ্জের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক আব্দুস শহীদ শাহিদ মিয়াকে সম্পূর্ন অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে হয়রানি করার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে স্থানীয় নতুন বাজার মোড়ে অনুষ্টিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘরের চালের টিন খুলে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে চাবি শালিস বোর্ডের হাতে হস্তান্তর না করলে নবীগঞ্জ থানার ওসিসহ পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ বাসীকে সাথে নিয়ে দুর্বার গণ আন্দোলন গড়ে তুলা হবে।

    বক্তারা বলেন,আগামী ২৯ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নবীগঞ্জ আগমনকে কেন্দ্র করে শান্তির শহর নবীগঞ্জকে অশান্ত করতে একটি অশুভ শক্তির ইঙ্গিতে নবীগঞ্জ থানার ওসি আইন শৃংখলার অবনতির যে পায়তারা করেছেন তার জন্য এর দায় তাকেই বহন করতে হবে।বক্তারা আরো বলেন, ওসি লিয়াকত আলী নবীগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে অঞ্জনা হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় টাকার বিনিময়ে অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

    এছাড়া অবাধে মাদকের ব্যবসাসহ আইন শৃংখলার চরম অবনতি হয়েছে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন।প্রতিবাদ সমাবেশটি কিছুক্ষনের মধ্যেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

    নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও অলিউর রহমান অলির পরিচালনায় অনষ্টিত প্রতিবাদ সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর এটিএম সালাম

    প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা আব্দুর রউফ, বাউসা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট মুরব্বী আব্দুল হাই,কালিয়ারভাঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান সেফু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সাইফুল জাহান চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি ও প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমেদ চৌধুরী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ডাক্তার আজিজুর রহমান, লন্ডন প্রবাসী হাজী তরাজ মিয়া ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর।

    বক্তব্য রাখেন, হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট ফারুক আহমেদ,নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিঠু,কাউন্সিলর রিজভী আহমেদ খালেদ, যুবরাজ গোপ, মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম সুমন, জাপা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহমদ, উপজেলা কৃষক পার্টির সভাপতি কমান্ডার এম এ খালেক, কৃষকলীগ নেতা ফারুক মিয়া,কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক বিভু আচার্য্য, নহরপুর মাদ্রাসার পরিচালনা কমিঠির সদস্য আফজল হোসেন,মৎস্যজীবি দলের সভাপতি মোঃ সাহেব আলী প্রমূখ।

    উপস্থিত ছিলেন, সাবেক কমিশনার আব্দুস সালাম, সাবেক মেম্বার আব্দুল হেকিম, রফিক মিয়া মেম্বার, কাউন্সিলর সুন্দর আলী, মহরম আলী, আতাউর রহমান, লেবু মিয়া, হীরা মিয়া, ইছমত আলী মেম্বার, ইমান আলী মেম্বার,সাজিদুর রহমান মেম্বার, সাবেক মেম্বার ছুনুমিয়া, ফরজ আলী, সফিক মিয়া, মনর উদ্দিন,নুরুল আমীন, শহীদ মিয়া প্রমূখ।

    সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ নূও উদ্দিন আহমেদ ও পবিত্র গীতা পাঠ করেন সঞ্জয় কুমার দাশ। প্রধান অতিথির বর্ক্তৃতায় এমপি মুনিম চৌধুরী বাবু বলেন, পুলিশসহ যে কোন সরকারী কর্মকর্তার অন্যায় আচরন বরদাস্থ করা হবে না।

    বিশেষ অতিথির বর্ক্তৃতায় পৌর মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যে পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা না দিয়ে ভক্ষক হয়ে কাজ করে আর সম্মানী লোকের অসম্মান করে সেই পুলিশের দরকার নেই।

    সভাপতির বর্ক্তৃতায় নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী বলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘরের চালের টিন খুলে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে চাবি শালিস বোর্ডের হাতে হস্তান্তর না করলে ৩ দিন পর এএসপি, ওসিসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের সদস্যদের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জবাসীকে সাথে নিয়ে দুর্বার গণ আন্দোলন গড়ে তুলা হবে বলে আল্টিমেটাম দেন। প্রয়োজনে হরতালসহ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, বিরোধীয় ঘরটি কোন পক্ষের নয় শালিস বোর্ডের। কাজেই যে পক্ষ শালিসের পরিপন্থি গিয়ে শালিসের জিম্মায় থাকা ঘরের ছালে পুলিশের সহযোগিতায় টিন লাগিয়েছেন তারাও নবীগঞ্জের সর্বময় গ্রহন যোগ্য শালিসের প্রতি সম্মাণ দেখাবেন।

    তবে নির্ধারিত সময়ের পরে আমাদের পিছনের দিকে ফিরার সুযোগ থাকবে না। এতে নবীগঞ্জের শান্তিশৃংখলা বিনষ্ট হলে এর দায়দায়িত্ব পুলিশসহ ওই পক্ষকেই নিতে হবে।

    নবীগঞ্জের রাজনৈতিক ব্যানারের বাহিরে সুশীল সমাজের উদ্দ্যোগে এই প্রতিবাদ সভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

    উল্লেখ্য, নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডস্থ চৌমুহনীতে একটি ভুমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরুধ দেখা দিলে বিষয়টি নিয়ে এমপি,উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের নেতৃত্বে ১২ সদস্য বোর্ড গঠিত হয়। এবং বিরোধীয় ভুমিটি শালিস বোর্ডের নিকট উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে জিম্মায় থাকে।

    এ অবস্থায় ২ রা নভেম্বর মধ্য রাতে গঠিত শালিস র্বোডকে অবজ্ঞা করে পুলিশের সহযোগিতায় শেখ সাইদুল মিয়া পক্ষ তার লোকজন নিয়ে জোরপুর্বক ঘর নির্মাণ করায় শান্তিপুর্ণ নবীগঞ্জ অশান্ত হয়ে উঠে। এরপ্রেক্ষিতে উক্ত শালিস র্বোড পুলিশের এএসপি নাজমুল ইসলাম ও থানার ওসি মোঃ লিয়াকত আলীকে ঘরের ছালের টিন খুলে পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে র্বোড প্রধান এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু এমপি’র হাতে জনসম্মুখে চাবি হস্তান্তরের আল্টিমেটাম দেন।

    গত শুক্রবার রাত ১২ টায় শালিস র্বোডের দেয়া আল্টিমেটারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশ কোন তৎপরতা বা ব্যবস্থা গ্রহন না করায় গতকাল শনিবার উক্ত গণসমাবেশের ডাক দেন নবীগঞ্জের সুশীল সমাজ। শেষ পর্র্যন্ত এই সমাবেশটি গণআন্দোলনে রূপ ধারন করে। কিন্ত নবীগঞ্জের শান্তি শৃংখলা বিবেচনা করে উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে পুণরায় ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

    পুলিশ ওই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলেই হরতাল, অবরোধ, অসহযোগ আন্দোলনসহ নবীগঞ্জে অচল করার ঘোষনা দিলেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। ফলে যে কোন মুহুর্তে তা গণ রোষে পরিনত হতে পারে বলে আশংকা করছেন  বিশিষ্টজনেরা।