হেফাজতের বিরুদ্ধে মতিঝিল অভিযানে নিহতদের প্রমাণ দিতে পারেনি অধিকার

    0
    373

    ঢাকা, ১২ আগস্ট : ৫ই মে রাতে হেফাজতের বিরুদ্ধে মতিঝিল অভিযান বিষ্য়ক গত ১০ জুলাই মতিঝিলে অভিযানে নিহতের প্রমাণ পাওয়ার বিষয়ে নিহতদের নাম, বাবা-মায়ের নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা অধিকারকে চিঠি দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়্। এর এক সপ্তাহ পর অধিকার পাল্টা চিঠি দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়ে। এতে তথ্য দিতে অস্বীকার জানায় সংস্থাটি। এতে বলা হয়, সরকার কোনো প্রতিবেদন করলে পরস্পরের তালিকা মিলিয়ে দেখার প্রস্তাব করে অধিকার

    চারদলীয় জোট সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদিলুর রহমান খান শুভ্রের উদ্যোগে গঠিত অধিকারের বিরুদ্ধে নানা সময় অতিরঞ্জিত তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ আছে। সংগঠনটির কর্মীরা বিএনপি-জামায়াতের সাথে ঘনিষ্ঠ বলেও অভিযোগ আছে। আদিলুর রহমান খানের গ্রেপ্তারের পর তার মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া মাগুরা জেলায় অধিকারের একটি ইউনিট মানব বন্ধন করেছে। প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউরোপীয় বিএনপি।

    অধিকারের চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করলে তার কাছে তালিকা দেয়ার কথা বলা হয়। এতে দাবি করা হয়, ‘তাদের দাবির বিষয়ে নিশ্চয়তা না পেয়ে পূর্ণাঙ্গ তালিকা সরবরাহ করা হলে সেটা মানবাধিকার লংঘনে সহায়তা বলে বিবেচনা হবে। মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে এটা পারে না অধিবার’।

    হেফাজতের বিরুদ্ধে মতিঝিল অভিযানে তথাকথিত নিহতের তালিকা না দেয়ার পেছনে আরও একটি যুক্তি দেখিয়েছে অধিকার। তারা বলেছে, সেই রাতে কিছুই ঘটেনি বা কোনো প্রাণহানি হয়নি দাবি করার মধ্যে সরকার এটাই প্রমাণ করেছে যে, সরকার তাদের দায় অস্বীকার করতে চায় এবং এই ঘটনার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত করতে আগ্রহী নয়। মানবাধিকার লংঘনের ব্যাপারে সরকারের এই আচরণ অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়। সেখানে সরকার নিজেই এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত এবং কোনো প্রাণহানি হয়নি বলে বক্তব্য দিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে এই ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জনগণকে জানানোর বিষয়ে সরকার আন্তরিক নয় বলেই প্রতীয়মান হয়।

    সরকার বলছে, গত ৫মে রাতে হেফাজতের বিরুদ্ধে মতিঝিলে অভিযানে কেউ মারা যায়নি। কিন্তু অধিকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে সেই রাতের ঘটনা নিয়ে মিথ্যাচার ছড়িয়েছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছিল বলেও মনে করে সরকার।

    সংস্থাটির জবাবকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দেখছেন ঔদ্ধত্ব হিসেবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে যাওয়ার অধিকার কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই।মানবাধিকারের নামে কাজ করা সংস্থাটি এই ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে’। তিনি বলেন, ‘অধিকার একটি বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর বেসরকারি সংস্থা। তারা কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ বৈদেশিক অর্থ পেয়ে থাকে তার যথার্থ ব্যবহার হচ্ছে কিনা প্রয়োজনে এনজিও ব্যুরোর মাধ্যমে তাও খতিয়ে দেখা হবে।

     তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক বলেন, ‘অধিকারের কাছে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে নিহতদের নাম ও ঠিকানা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা দেয়নি। যদি তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া যায় তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে’। তবে অধিকারের পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের দাবি, তারা তথ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির সঠিক জবাব দিয়েছেন। কিন্তু এর পর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

    তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর একান্ত সচিব শহীদুল হক ভূঁঞার স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে দেখা গেছে, আপনাদের সংগঠন গত ২০ জুন হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন শীর্ষক তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আপনাদের চলমান অনুসন্ধানের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে গত ৫ মে দিবাগত রাতে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত ৬১ জনের নাম সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ৫ মে সারা দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সংঘর্ষে একজন পুলিশসহ মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং রাতে শাপলা চত্বরের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার অভিযানে একজনও নিহত হননি। গত ৬ ও ৭ মে প্রকাশিত দৈনিক নয়া দিগন্ত, সংগ্রাম, ইনকিলাবসহ অন্য জাতীয় দৈনিকের বিভিন্ন প্রতিবেদন তন্নতন্ন করে খুঁজেও ওই দিন ১৬ জনের বেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

    তথ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়, ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ঘটনা জনগণের সামনে প্রকাশে সরকার আন্তরিক। এ জন্য প্রতিবেদনটি প্রয়োজন।