হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ ৬ এপ্রিল

    0
    397

    ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখী লংমার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর লালবাগ মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই আহ্বান জানায়। 

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্যসচিব জুনায়েদ আল-হাবীব, খেলাফতে ইসলামীর আমির আবুল হাসানাত আমিনী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসুফী প্রমুখ।
    ৩ এপ্রিল সকালে লালবাগে ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন, বিকেলে পুরানা পল্টন থেকে প্রচার সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
    ৬ এপ্রিল দেশের সব জেলা থেকে লংমার্চ করে এসে রাজধানী ঢাকাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য অচল করে রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে হেফাজতসংশ্লিষ্ট কওমি ধারার বিভিন্ন দল, সংগঠন ও আলেমদের অন্তত ১০টি প্রতিনিধিদল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কওমি মাদ্রাসাগুলো সফর করছে।
    এই কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের ১৩ দফা দাবির বিষয়ে প্রতিশ্রুতি আদায় করতে চায় হেফাজতে ইসলাম।  

    লংমার্চে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে ৭ এপ্রিল থেকে সারা দেশে লাগাতার হরতাল দেওয়ার আগাম ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
    লংমার্চে বাধা বা হেফাজতের কোনো নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলে পরদিন থেকে এমন কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
    সংবিধানের মূলনীতিতে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি পুনঃস্থাপন করা, আল্লাহ, পবিত্র কোরআন, মহানবী (দ.) ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে গত ৯ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে এই লং মার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়।
    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বাইরে ইতিমধ্যে ঢাকা, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুরে বিভাগীয় ও জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকায় লংমার্চ সমন্বয় কমিটি গত শনিবার রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, সূত্রাপুর ও ঢাকার উপকণ্ঠ সাভার-আশুলিয়া এবং কেরানীগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ এলাকা নিয়ে নয়টি কমিটি করেছে।

    লংমার্চ সমন্বয় কমিটি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘সরকার জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থা নিচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও তারা অনেক আগে থেকেই করছে। এ বিষয়ে আলেম-ওলামারা টুঁ শব্দটিও করেননি। যখনই আল্লাহ, রাসুল (দ.) ও ইসলামকে আঘাত করা হয়েছে, আলেমরা তখনই প্রতিবাদে নেমেছেন।’ তিনি দাবি করেন, ‘কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো, বসানো বা কারও এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আমরা মাঠে নামিনি। এই আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াত বা অন্য কোনো দলের সম্পর্ক নেই।’
    দাবির সমর্থনে আজ সোমবার চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে রেসালত সম্মেলন করছে হেফাজতে ইসলাম। বেলঅ দুইটায় সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বক্তৃতা দেবেন।