১২২ বছরের ইতিহাসে সিলেট- সুনামগঞ্জে বন্যার থাবা

0
349
১২২ বছরের ইতিহাসে সিলেট- সুনামগঞ্জে বন্যার থাবা
১২২ বছরের ইতিহাসে সিলেট- সুনামগঞ্জে বন্যার থাবা

“আগামী মঙ্গলবার-বুধবার থেকে পানি কমে সিলেট ও সুনামগঞ্জের পরিস্থিতির উন্নতি হবে।  তবে দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেখা দেবে। এই সময়ে উপরের পানি নেমে যাবে” প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  বন্যাকবলিত এলাকার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। বলা হচ্ছে, ১২২ বছরের ইতিহাসে সিলেট ও সুনামগঞ্জে এমন বন্যা হয়নি। এই দুই জেলাসহ দেশের ১২ জেলার ৬৪ উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে।

শনিবার ১৮ জুন বিকেলে সচিবালয়ে দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “দেশের সব সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী না ঘুমিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে।“

মন্ত্রী জানান, আগামী মঙ্গলবার-বুধবার থেকে পানি কমে সিলেট ও সুনামগঞ্জের পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেখা দেবে। এই সময়ে উপরের পানি নেমে যাবে।

গত ১৫ মে এ বর্ষায় প্রথম দফায় বন্যা হয় সিলেটে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে, মে মাসের বন্যায় গত ১৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পানি হয় সিলেটে। তবে চলমান বন্যা গত মাসের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।

বুধবার (১৫ জুন) থেকে সিলেটের নিচু এলাকায় পানি জমে যায়। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতের মধ্যেই সিলেট নগরের বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে যায় বন্যার পানিতে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিলেটে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বাসা-বাড়ি ভাসিয়ে নিয়েছে। একদিনে বন্যার এমন ভয়াবহ রূপ আগে দেখেনি সিলেটের মানুষজন। বন্যার পানির এমন আকস্মিক বৃদ্ধিতে হতভম্ব ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষ। অবাক হয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।

ভয়াবহ বন্যার শিকার লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েও জায়গা পাচ্ছেন না। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছেন সিলেটের বানভাসি মানুষ। এছাড়া জেলার কৃষকরা তাদের গৃহপালিত পশু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠকরা মানবিক সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সাধ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

অপরদিকে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সিলেট এয়ারপোর্ট বন্ধ রয়েছে।এখন সিলেট রেলস্টেশন ও বন্ধ ঘোষণা করেছে বলা হয়েছে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ঘোষণা বলবৎ থাকবে।সিলেট সুনামগঞ্জের অধিকাংশ রাস্তা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। নেই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইল নেটওয়ার্ক।দেশ বা বিদেশের স্বজনদের সাথে সম্পূর্ণ ভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে দেশে বসবাসকারী স্বজনরা এবং প্রবাসে থাকা স্বজনরা রয়েছে অজানা আশংকায়।