৩০০টাকা মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের সভা

0
276
৩০০টাকা মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের সভা
৩০০টাকা মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে চুনারুঘাটে চা শ্রমিকদের সভা

চুনারুঘাট থেকে: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ৪ নম্বর পাইকপাড়া ইউপির লস্করপুরে চা শ্রমিকদের ১৪ টাকা মজুরী বৃদ্ধি করে, জনপ্রতি ৩০০টাকা মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৮ আগস্ট ২০২২) দুপুরে লস্করপুর নাট মন্দির প্রাঙ্গনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত লস্করপুর ভ্যালী কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশীয় চা সংসদ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যকার ২০২১-২০২২খ্রি. দ্বি-বার্ষিক, দ্বি-পাক্ষিক  শ্রমচুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভা চলে বিকাল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত। সভার শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য সহধর্মিণী এবং সহযোদ্ধা

বঙ্গমাতা  শেখ  ফজিলাতুন্নেছার  মুজিবের ৯২তম  জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে  শ্রদ্ধা নিবেদন এবং প্রয়াত চা শ্রমিক নেতা ও শ্রমিকদের  বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়েছে। লস্করপুর চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি রজনীকান্ত কালিন্দীর সভাপতিত্বে ও লস্করপুর ভ্যালী ছাত্র যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক  মুকেশ কর্মকার পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, ইউপি মেম্বার নৃপেন পাল। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন – লস্করপুর ভ্যালী কার্যকরী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র গৌড়। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন – লস্করপুর ভ্যালী কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনিরূদ্ধ বাড়াইক, সহ-সভাপতি উজ্জ্বলা পাইনকা, চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা সাবেক ইউপি মেম্বার লক্ষ্মী চরণ বাকতী, বিশ্বনাথ কালিন্দী, সৌমিত্র কর্মকার, আশীষ তন্তবায় বেবুল, বিরেন কালিন্দী, বিপ্লব মুড়া, খায়রুন আক্তার প্রমূখসহ বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও ভ্যালী কমিটির বিভিন্ন চা বাগানের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ। এছাড়াও মাধবপুর-চুনারুঘাট উপজেলার ২৩ টি চা বাগানের শ্রমিকরা দলে দল বেধে  এখানে এসে এ প্রতিবাদ সভায় মিলিত হন। বক্তারা বলেন, ১৪ টাকা মজুরী বৃদ্ধি করে, জনপ্রতি ৩০০টাকা  মজুরী নির্ধারণের প্রস্তাবে চা শ্রমিকদের নেহায়েত বাঁচার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, সন্তানদের লেখাপড়া ও আনুষাঙ্গিক খরচ ইত্যাদি প্রচন্ড বৃদ্ধিতে  চা শ্রমিকদের জীবন সংগ্রাম অনেক কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটির দাবিসহ এই মজুরী বৃদ্ধি হলে কোন রকম শ্রমিকরা বেচে থাকতে পারবে। তারা সব দিকেই অবহেলিত। দ্বি-বার্ষিক, দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা সভা দীর্ঘ ১৯ মাস ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি পূরণ না হলে ২ ঘন্টা করে প্রতিদিন কর্মবিরতির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ সভা চালিয়ে যাবেন। তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান। উল্লেখ্য যে, ১৪ টাকা মজুরী বৃদ্ধি করে, জনপ্রতি মজুরী ৩০০ টাকা নির্ধারণে গত ১লা আগস্ট থেকে চলমান ইউনিয়ন কার্যকরী কমিটি ও ভ্যালী কমিটির যৌথ সভায় কর্মদিবসের  মধ্যে দিয়ে এ প্রতিবাদ সভা করে আসছেন। এ দাবি পূরণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য  সারাদেশে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা  বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।