৪২ বছর পর আমরা আবার শুরু করেছি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ

    0
    483

    ।। জ্যোতিকা জ্যোতি ।। Joti

     ১.  ৫ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টায় রওনা দিলাম দৌলতপুর থেকে। যাব বাগেরহাট। আমার সিনেমা ‘জীবনঢুলী’র শুটিং চলছে খুলনায়। এত সকালে রওনা দেওয়ার কারণ সেদিন ছিল জামায়াত শিবিরের ডাকা হরতাল। সেদিন আমাদের শুটিংয়ের শেষ দিন। কিন্তু সেই ভোরে রওনা দিয়েও আমরা নিরাপদ থাকলাম না। জামায়াত শিবির হামলা চালালো আমাদের  উপর। ভাংচুর করলো আমাদের গাড়িগুলো। নিজেদের ধার্মীক দাবি করা এ দল ফজরের নামাজ পড়েই শুরু করলো ভাংচুর। আমরা সবাই কোনভাবে পৌঁছালাম বাগেরহাটে। কিন্তু কাজ শুরু করতে পারলাম না। চুপ মেরে বসে থাকলাম অনেকক্ষণ। মনের মধ্যে ওদের তাণ্ডব। ১২টার দিকে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম সবাই।

    আমার ফোনে হঠাৎ এক অপরিচিত নাম্বার থেকে ম্যাসেজ ‘এ রায়ে আমি খুশি না, আপনি? বুঝে উঠতে সময় লাগলো আমার। খুঁজতে লাগলাম টেলিভিশন, পেয়েও গেলাম। দেখলাম নিউজ, যুদ্ধাপারাধের দায়ে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আমি ভাবতে লাগলাম এটা কি করে সম্ভব? তখন আমার অনুভূতি হল ঠিক প্রায় ২০ বছর আগে একবার যেমন হয়েছিল। সেবার গোলাম আযম নাগরিত্ব পাওয়ার পর ময়মনসিংহ সফরের ঘোষণা দিল। আমি তখন খুব ছোট, অতকিছু মনে নাই। শুধু মনে আছে আমার সারা শরীর কাঁপছিলো। আর চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছিলো, আসুন আমরা ঠেকাই, আমাদের জন্মস্থানে যেন ওই নোংরা পা না পড়ে।

    কিন্তু আমি এত ছোট যে, কথাগুলো মুখ ফুটে বেয় হয়নি। শুধু ঘৃণা আর ক্রোধে কান্না পাচ্ছিলো আমার। কিন্তু এখন আর এত ছোট নই যে, কাদের মোল্লার রায়ে আমার যে অনুভূতি তা চেপে রাখতে হবে। কিছু একটা করতে হবে আমাকে। করতেই হবে। চুপ করে বসে থাকলাম। কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। অস্থির লাগছে। কোনভাবে কাজটাও শেষ করতে হবে। সন্ধ্যায় হঠাৎ টেলিভিশনে দেখলাম কাদের মোল্লার রায় মানে না এমন সব মানুষ এসে শাহবাগে জড়ো হচ্ছে, প্রতিবাদ করছে। আমার রক্ত টগবগ করে উঠলো।

    ইচ্ছে হল এখনই ছুটে যাই শাহবাগ। চিৎকার করে বলি, যারা কোনদিন চায়নি বাংলাদেশ হোক, এ দেশে তাদের নি:শ্বাস ফেলতে দেওয়া যাবে না। এ দেশের আকাশে বাতাসে মাটিতে মিশে আছে লক্ষ শহীদের আত্মা, লক্ষ নারীর কান্না-যন্ত্রণা। আমি তখনই দৌড়ে শাহবাগ আসতে পারিনি পরদিনও ছিল হরতাল। ছটফট করলাম একটা দিন। ৭ ফেব্রুয়ারি ছুটে আসলাম শাহবাগ। একি চেহারা শাহবাগের! আমার মত হাজার মানুষের চাওয়া এক! সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে দেশের জন্য? আর এ কি ধরণ আন্দোলনের। চোখে পানি চলে আসে, আমি তো এমন স্বপ্নই দেখতাম! সেই থেকে প্রতিদিন শাহবাগ, মিছিলে স্লোগানে…

    ২. এ গণজাগরণ আমার স্বপ্নের জাগরণ, আমার প্রাণের আন্দোলন। আমি বেড়ে ওঠার সাথে সাথে এমন একটি প্রতিবাদ দানা বাঁধতে থাকে আমার ভেতর। যখন দেখতাম ‘মুসলমান’ হওয়ার ক্ষমতায় কিছু মুসলমানরা জমি কেড়ে নিচ্ছে হিন্দুদের, এবং বলছে ‘মালায়ুনদের জায়গা ইন্ডিয়ায়’ হিন্দুদের পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মেয়ে হয়ে জন্মানোর দায়ে চলছে নির্যাতন, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির দায়ে খুন হচ্ছে ছাত্রছাত্রী, দেশজুড়ে মারামারি কত কি? মানুষ কেন করবে মানুষের অপমান, নির্যাতন?  

    আমার ব্যক্তিগত জীবন চলনে প্রতিক্ষেত্রে আমি প্রতিবাদ করেছি যতটা সম্ভব। কিন্তু দেশের সংকটজনক সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমি এমন একটা আন্দোলনের স্বপ্ন দেখতাম। যে আন্দোলন সকল দলের উর্দ্ধে থেকে মানুষের কথা বলবে। মানুষের অধিকারের কথা বলবে। দেশের কথা বলবে, সকল ক্ষেত্রে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। প্রজন্ম চত্ত্বরের এ আন্দোলন আমার স্বপ্নের সেই আন্দোলন। এখানে নারী পুরুষে ভেদাভেদ নেই। ধর্মে ধর্মে ভেদাভেদ নেই। নেই মারামারি কাটাকাটি। এখানে সবার একটা পরিচয় আমরা বাঙ্গালী। আমরা এখানে আমাদের অধিকারের কথা বলতে এসেছি। মানুষের জয়গান গাইতে এসেছি। যে স্বপ্ন নিয়ে লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালী তাদের সব উজার করে দিয়েছিল সোনার বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য। আমরা সেই স্বপ্নের বাংলাদেশের কথা বলতে এসেছি।

    এখানে এক অদ্ভুত প্রেমের বাধঁনে বাঁধা সবাই। সে প্রেম দেশপ্রেম। এখানে আন্দোলন হয় গানে গানে। কবিতায়, স্লোগানে, মোম ও মশালের আলোতে। কাগজে কলমে, ফুলে ফুলে, ল্যাপটপ, পতাকায় আর হাজার হাজার মানুষের দেশপ্রেমের শক্তিতে। পৃথিবীর বুকে ইতিহাস হয়ে থাকবে অস্ত্রছাড়া আমাদের এ আন্দোলন। যা অপশক্তির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। আমার গর্ব হয় একজন বাঙ্গালী হিসেবে, গর্ব হয় এ প্রজন্মের একজন হিসেবে। ঝিমিয়ে পড়া যে সকল আঁতেলরা এ প্রজন্ম উচ্ছন্নে গেছে বলে ঠোট বাঁকা করতো, তারা এসে দেখে যাক আমরা কি করতে পারি, ফেসবুক, ইন্টারনেটে আমরা কি করি, আমরা বাংলাদেশকে কতটা ভালোবাসি।

    ৩. ১০ ফেব্রুয়ারি শুটিং করতে গিয়ে বুঝলাম আমার পক্ষে আপাতত অন্য কাজ করা সম্ভব না। আমার মন শাহবাগে, রক্তে প্রজন্ম চত্ত্বর। এতদিনে শাহবাগ মোড় সবার কাছে প্রজন্ম চত্ত্বরে পরিণত হয়েছে। বন্ধ করলাম শুটিং। চলতে থাকলো দিনরাত আমাদের আন্দোলন। কখনো মূল মঞ্চে কখনো মঞ্চের অদূরে। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে মূল মঞ্চের পাশ দিয়ে যেতেই একজন আমার নাম ঘোষণা করছিলো। আমি দাড়ালাম মাইক্রোফোন হাতে। এত মানুষ একটু ভয় লাগলো না আমার। মনে হল বলতে হবে আমাকে করতে হবে কিছু। বলতে থাকলাম, বলতে থাকলাম…অদ্ভুত অনুভূতি আমার। আমি যা বলছি সবাই সায় দিচ্ছে। আমার সাথে সাথে সবাই জয় বাংলা বলছে। সে কি সাহস আমার। সে কি প্রেম সে কি শান্তি! ভোরের আলো ফুটতে শুরু করলো। ১৪ ফেব্রুয়ারি। আমি বললাম আমার ভ্যালেন্টাইন বাংলাদেশ।

    ৪. সিদ্ধান্ত নিলাম ময়মনসিংহ জাগরণ মঞ্চে যাবো। আমার শহরে। ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে পৌঁছালাম ময়মনসিংহ জাগরণ মঞ্চে। বুঝলাম আমার আসাটা দরকার ছিল। ওরা অনেক খুশি আমাকে পেয়ে। ওরা আমাকে ছাড়তে চাইলো না। মঞ্চে ভাষণের পর ৫০ বছর বয়সী দুজন এসে আমাকে বললেন ‘মা তুমি আমাদের মনের কথা বলেছো। তুমি এখানে প্রতিদিন এসো।’  আমি আর একদিন থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। মনে হলে এখানকার মেয়েদের অংশগ্রহণটা আন্দোলনে আরও বাড়াতে হবে। রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরে দেখি আমার মায়ের টেনশন, পায়চারী করছেন তিনি। আমাকে দেখে অদ্ভুতভাবে বলে উঠলো ‘একটা ছেলে খুন হয়েছে টিভিতে দেখলাম।’ এ আন্দোলনের এক যোদ্ধা ব্লগার রাজীব খুন। শরীরটা ঠান্ডা হয়ে আসলো। কান্না পাচ্ছে কিন্তু কান্না আসছে না। প্রচন্ড ক্ষোভ মনের মধ্যে। এ কেমন জন্মভূমি?

    এত লক্ষ লক্ষ জীবন নিয়েও স্বাদ মিটেনি তার। আরও রক্ত চাই আরও কত রক্ত? ৪২ বছর পর আবার থাবা বসিয়েছে সেই নৃশংস পাকিস্তানী দোসররা। আর আমরা মেনে নিব তা? অসম্ভব। মনের মধ্যে জেগে উঠলো এক তীব্র শপথ। জামায়াতে ইসলামী নামধারী এ দলটি নিষিদ্ধ করার আন্দোলন আরোও জোরদার করতে হবে সবার আগে। যারা কোনদিন চায়নি বাংলাদেশ হোক । যারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এ দেশের মানুষ, পাশবিক নির্যাতণ, ধর্ষণ করেছে এদেশের নারীকে সেই রাজাকার, আলবদর, আলসামস, শান্তিবাহিনী জামায়াত আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে? স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা তা হতে দিবো না।  

    সকল মানুষ সকল ধর্ম রক্ষায়। জামায়াত রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। পরদিন ময়মনসিংহ জাগরণ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হল রাজীবের জানাজা। সন্তান হারানোর যন্ত্রণা শুধু টের পায় মা-বাবা। আমার মায়ের আফসোস দেখে কষ্ট বাড়তে থাকে রাজীবের বাবা মার জন্য। রাজীবের শুণ্যতায় তাদের যে কষ্ট আমরা তা দূর করতে পারবো না জানি। তবে এইটুকু তাদেরকে বলতে পারি আপনারা দেখেন আপনার রাজীবের মত লক্ষ লক্ষ সন্তান দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। আমি জানি বীর সন্তানের মা বাবার এটাই সান্তনা। আমার মাও কোনভাবেই চায় না আমি দিনরাত এভাবে যাই শাহবাগে। কিন্তু আমি যখন মাকে বুঝাই দেখ মা এ আন্দোলনের জন্য নতুন বিল পাশ হয়েছে। এ আন্দোলনের জন্য কেউ এখন আর হরতাল মানে না। তখন মা আর বলেন না ‘এ আন্দোলন করে কি হবে’। সে বুঝে আমাকে থামানো যাবে না। তার চোখে থাকে নীরব সম্মতি।

    ৫. ময়মনসিংহ জাগরণ মঞ্চের যোদ্ধারা আমাকে দিয়ে দিল এক বার্তা। আমি যেন শাহবাগ মঞ্চে এসে বলি ওরা নিজ হাতে বিচার করতে চায় ময়মনসিংহের যুদ্ধাপারাধী কাম‍ারুজ্জামানের, কলংকমুক্ত করতে চায় ময়মনসিংহকে। আমি হাসি, কি উত্তাল এ তরুণরা। শাহবাগ কতটা জাগ্রত করেছে এদেরকে। টের পাই সারা বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে শাহবাগ এবং প্রজন্ম চত্ত্বর। জয় শাহবাগ জয় প্রজন্ম চত্ত্বর। ২০ ফেব্রুয়ারি প্রজন্ম চত্ত্বর মঞ্চে আমি পৌঁছেদিলাম তরুণদের এ বার্তা। সাথে আমারও এক লিখিত দাবি শাহবাগ মোড়ের নাম করা হোক প্রজন্ম চত্ত্বর। এ দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন মনে রাখে এ জাগরণ, শিক্ষা নেয় এ জাগরণ থেকে। চলতে থাকে আন্দোলন। আমরা ঘরে ফিরতে চাইলেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে অপশক্তি আমরা রাজপথ ছাড়িনা। কিন্তু হুমকি আসে। কিছু বাঁধা আসে, কিছু হতাশা আসে। তবুও ভেঙে পড়িনা। আমি ২০ দিন হল শুটিং শুরু করতে পারছি না। শাহবাগে পা রাখলেই উত্তাল সাহস আসে মনে। যারা প্রশ্ন করে কি হবে তোমাদের এ আন্দোলন দিয়ে? এর শেষ কি? আমার উত্তর, শেষ ভেবে আমরা শুরু করিনি। দেশকে ভালোবেসে শুরু করেছি। কোন হিসাব মেলাতে এখানে আসিনি। আমরা জানি আমরা সফল হব। কারণ এটা আমাদের ন্যায্য চাওয়া। এটা বাংলাদেশকে ভালোবাসা প্রতিটি মানুষের চাওয়া।

    ৬. আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে না। আমার ইচ্ছে হয় পৃথিবী জুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলি মৃত্যুদণ্ডের বিপক্ষে। মানুষের ক্ষমতা নেই একটা প্রাণ সৃষ্টি করার তাই মানুষের অধিকারও নেই একটি প্রাণ বিনাশ করার। শাহবাগে প্রথম যেদিন ফাঁসি চাই বলতে চাইলাম মুখে আটকে আসতে চাইলো। কিন্তু আটকালো না, মনে হল ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীরা আমার মায়ের খুনী, মায়ের খুনীদের বোধহয় কোন সন্তানের পক্ষেই ক্ষমা করা সম্ভব না। আমিও বললাম ফাঁসি চাই। এরা বেঁচে থাকলে আরও শহীদ মিনার ভাঙ্গবে, পতাকা পুড়াবে, জায়নামাজ পুড়বে, আরও রাজীব খুন হবে, মানচিত্রের দিকে বাড়াবে বিষাক্ত নখ। ওরা পাকিস্তানী দোসর, যে পাকিস্তান আজো ক্ষমা চায় না বাংলাদেশের কাছে তাদের নৃশংসতার জন্য। এই সেদিনও পাকিস্তানী এক নেতা বলেছেন ‘৭১ এ যদি পারমানবিক বোমা থাকতো তাহলে পাকিস্তানের বাকি অংশটা [বাংলাদেশ] আমাদের হারাতে হত না।’

    যারা ক্রিকেটে পাকিস্তান সাপোর্ট করে থাকে তাদের যুক্তি থাকে খেলার সঙ্গে কি সম্পর্ক রাজনীতির অথবা ৪২ বছর আগের ঘটনা মনে রেখে কি লাভ। তাদেরকে বলি দেখুন ৪২ বছর পরও পাকিস্তান চিন্তা করে বাংলাদেশের উপর পারমানবিক বোমা মারার কথা। তাদের হিনা রাব্বানি এসে ইনিয়ে বিনিয়ে একথা সে কথা বলে যায়। কিন্তু ক্ষমা চায় না তাদের কলংকের জন্য। তাহলে আমরা কি করে ভুলবো সেসব নির্যাতন যা শুনলে , জানলে , পড়লে আমার গা শিউরে ওঠে। আমি ক্ষমা করতে পারবো না পাকিস্তানকে, পাকিস্তানী দোসর রাজাকারকে আর ধর্মের দোহাই দিয়ে মানবতার অবমাননাকারী জামায়াত শিবিরকে।

    ৪২ বছর পর আমরা আবার শুরু করেছি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। বিনাশ করবো সকল অপশক্তি। এ আন্দোলন সাক্ষী হয়ে থাকলো ইতিহাসের। এ আন্দোলন সত্যিকার অর্থেই জাগ্রত করলো মানুষকে। মানুষ শিখলে তার অধিকার আদায়ে কিভাবে ঝাপিয়ে পড়তে হয়। কিভাবে বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড ছাড়াও সোচ্চার হওয়া যায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এ আন্দোলন তৈরি করে দিলো আরও একটি ৭১’র চেতনা বুকে ধারণ করা প্রজন্ম । যে শিশুরা আন্দোলন দেখছে বলেছে জয় বাংলা। আমি স্বপ্ন দেখি এ আন্দোলন হয়তো শান্তি দিবে ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। মুঁছে দিবে বীরাঙ্গনার ক্ষত। গড়ে উঠবে সোনার বাংলা, ক্ষমা চাইবে পাকিস্তান। আমি গর্বিত এ আন্দোলনের একজন যোদ্ধা হিসেবে। স্যালুট জানাই হাজার হাজার যোদ্ধাকে। যারা ঝাপিয়ে পড়েছে শাহবাগে এবং সারা দেশ জুড়ে।

    ৭১’এ আমরা একটা পতাকা পেয়েছি সবুজ বাংলাদেশের বুকে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে জমাট বাঁধা লাল সূর্য্য। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকে পতাকায় আমি সবুজ অংশটায় আরও ২টা লাল ছিটা দেখতে পাই। একটা জাফর মুন্সির আর একটা রাজীবের। ভয় হয় সবুজ অংশটা কি আরও অসংখ্য ছিটায় লাল হয়ে যাবে। একটা আমার একটা আপনার এমন আরো অনেকের। আসুন আমরা সবাই মিলে পতাকাটা রক্ষা করি। রক্ষা করি সবুজ অংশটা। এ সবুজ তারুণ্য, এ সবুজ অসাম্প্রদায়িকতা, এ সবুজ সমান অধিকার, এ সবুজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম, এ সবুজ মানে মাথা নত না করা। এ সবুজ মানে বাংলাদেশ। জয় বাংলা।

    লেখক : অভিনয়শিল্প