৫০৩ রানের মাইল ফলকে বাংলাদেশ

    0
    203

    আমারসিলেট24ডটকম,১৩নভেম্বরঃ  জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের ১ম ইনিংসে ৫০৩ রানের মাইল ফলক ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচ টেস্ট সিরিজের ৩য় ও শেষ টেস্টের ২য় দিনে সাকিব আল হাসান ও রুবেল হোসেনের দৃঢ়তায় ১ম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয়েছে টাইগাররা।

    আজ ববৃহস্পতিবার ৩য় সেশনে অলআউট হওয়ার আগে ৫০৩ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটি তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

    ২০০৫ সালে চট্টগ্রামেই ৪৮৮ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।

    এর আগে আজ ২ উইকেটে ৩০৩ রান নিয়ে ২য় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। ২ সেশনে ২০০ রান যোগ করে শেষ ৮ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে দিনের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি স্বাগতিকদের।

    শুরুর ঘণ্টায়ই বিদায় নেন আগের দিনের ২ অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
    আগের দিনের ২ উইকেটে ৩০৩ রানের পুঁজি দিয়ে আজ ২য় দিনের মত ১ম ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ দলের ২ অপরাজিত ব্যাটসম্যান মোমিনুল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

    এসময় হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে ছিলেন ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে থাকা মোমিনুল। আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ছিলেন ৫ রানে।

    তবে সকালের উইকেটে বাংলাদেশকে চেপে ধরা জিম্বাবুয়ানরা ঠিকই সফলতা অর্জন করে। ৫০ রানের মাইল ফলকে পৌছতে না দিয়েই পেনিয়াংগারা ফিরিয়ে দেন ৪৮ রানে থাকা মোমিনুলকে।

    তিনি যখন সাজঘরে ফিরছিলেন তখন বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ শালায় যুক্ত হয়েছে আর মাত্র ৯ রান। অর্থাৎ দলীয় ৩১২ রনে পতন ঘটে ৩য় উইকেটের।
    এরপর সাকিবের সঙ্গে জুটি বেধে দারুন ফর্মে থাকা মাহমুদুল্লাহ টাইগার শিবিরেকে আরেকটি বড় পার্টনারশীপ গড়ার স্বপ্ন দেখালেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি তিনিও।

    ব্যক্তিগত ১৬ রান নিয়েই বিদায় নিতে হয় তাকেও। সিনগি মাসাকাদজার বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন রিয়াদ। এরপর আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান একপাশ আগলে রেখে ব্যাটিং আগ্রাসন চালালেও খেই হারায় অপর প্রান্তটি।

    এবার স্বল্প রান নিয়েই বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক টেস্ট ম্যাচের নেতৃত্ব দেয়া মুশফিকুর রহিমকে। ব্যক্তিগত ১৫ রানে তিনি মাঠ ছেড়েছেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজার বলে সরাসরি বোল্ড আউট হয়ে।
    এরপর মধ্যাহ্ন বিরতীতে যায় বাংলাদেশ। মধ্যাহ্ন বিরতীর সময় সাকিব ৪৫ ও শুভগত হোম ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। শুভাগত হোম চৌধুরীর সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন সাকিবও।

    সিকান্দার রাজার বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে ক্রেইগ আরভিনের চমৎকার ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ৭১ রান করেন সাকিব। তার ১১০ বলের ইনিংসটি গড়া ৭টি চারে। পরের ওভারেই ফিরে যান তাইজুল ইসলাম। শিঙ্গি মাসাকাদজার বলে উইকেটরক্ষক রিচমন্ড মুতুমবামির গ্লাভসবন্দি হন তিনি।
    শফিউলকে নিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ সাড়ে ৪০০ পার করেন শুভাগত। কিন্তু এরপর দুজনই ফিরে গেলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। রাজার বলে আরভিনের ক্যাচে পরিণত হন শফিউল। দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান শুভাগত।

    সেখান থেকে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫০০ রান পার হওয়ায় বড় অবদান রুবেল ও জুবায়ের হোসেনের। ইনিংসের ২য় সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়ে উঠে ১০ম উইকেটেই। তাদের ৫১ রানের সুবাদে টেস্টে নিজেদের ৩য় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
    শেষ উইকেট জুটি ক্রিজে থাকায় চা-বিরতি ৩০ মিনিট পিছিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু অতিথিদের হতাশ করে দ্রুত রান তুলতে থাকেন রুবেল। ৪৪ বলে ৪টি ছক্কা ও ৪৫ রানে অপরাজিত থেকে যান দশ নম্বরে নামা এই ব্যাটসম্যান।

    জুবায়েরকে বোল্ড করে ১০ম উইকেট জুটির প্রতিরোধ ভাঙেন টিনাশে পানিয়াঙ্গারা। জিম্বাবুয়ের রাজা ৩ উইকেট নেন ১২৩ রানে। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, পানিয়াঙ্গারা ও শিঙ্গি মাসাকাদজা।

    প্রসঙ্গত ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আর চট্টগ্রাম টেস্টের মিশন হচ্ছে জিম্বাবুয়েকে হুয়াইট ওয়াশ করার।