৬ গরু ব্যবসায়ী হত্যাকান্ডের ঘটনায় সীমান্তে আতংক

    0
    219

    চুনারুঘাট সীমান্তে ১০ বছরে ভারতীয় গ্রামবাসীর হাতে ৩০ বাংলাদেশী খুন

    আমারসিলেট24ডটকম,নভেম্বর,এস,এম,সুলতান খানহবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটের বাল্লাসহ ৫টি সীমান্তে গত ১০ বছরে নারী-শিশুসহ ৩০জন বাংলাদেশী নাগরিককে ভারতীয়রা নির্যাতনের পর হত্যা করেছে। এর মধ্যে মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে ভারতীয়দের হাতে ৬ বাংলাদেশির র্মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয়রা শুধু হত্যা করেই ক্লান্ত হয়নি মরদেহ গাছেও ঝুলিয়ে রেখে উল্লাস করেছিল। এ নির্মম হত্যাকান্ড নিয়ে চুনারুঘাটের বাল্লা সীমান্ত এলাকায় গ্রামবাসীদের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা ও চরম আতংক বিরাজ করছে।

    এদিকে গত ২৮ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে রেমা সীমান্তের বাছাইবাড়ি এলাকায় গাজীপুর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের আজগর আলীর পুত্র করম আলী (৩৫), ছমির হোসেনের পুত্র সুজন (২২) ও চুনু মিয়ার পুত্র আকল মিয়া (১৯) কে ভারতীয় নাগরিকরা কুপিয়ে হত্যা করে। ৪৮ ঘণ্টা পর ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেদারাকোট সীমান্তের ১৯৬৬ নম্বর মেইন পিলার বরাবর বিজিবি ও বিএসএফএর মাঝে পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ কোম্পানী কমান্ডার বিরেন্দ্র বাজপাই ও খোয়াই থানার ওসি শ্যামল দেব বর্মা নিহত ৩ বাংলাদেশীর মরদেহ বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়ান কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল নাসির উদ্দিন ও চুনারুঘাট থানার ওসি অমুল্য কুমার চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করেন।

    মরদেহ হস্তান্তর কালে স্থানীয় চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলাম মোল্লা, নিহতদের আত্মীয় স্বজন, সাংবাদিকসহ বিপুল সংখ্যক লোক উপস্থিত ছিলেন। বিজিবির দাবী, নিহত বাংলাদেশীরা গরু ব্যবসায়ী ছিল। বিএসএফএর দাবী গরু চোর সন্দেহে বাংলাদেশিদেরকে ভারতীয়রা হত্যা করেছে। এদিকে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই শহরের কাছে গৌড়নগর গ্রামের দুর্বৃত্তরা চুনারুঘাট উপজেলা সীমান্ত ইউনিয়ন গাজীপুরের মানিক ভান্ডার গ্রামের খুর্শেদ আলীর পুত্র আনোয়ার আলী (৩৫), একই ইউনিয়নের হাপ্টার হাওর গ্রামের ছিদ্দিক আলী (৫৫) ও উসমানপুর গ্রামের মফিজ উল্লার পুত্র উমর আলী (৩০)কে কুপিয়ে হত্যা করে মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে এ উল্লাস করেছিল।

    এ প্রসঙ্গে গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, গত ১০বছরে বাল্লা রেমা, কালেংঙ্গা, গুই বিল, চিমটি বিল, সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী ও ভারতীয়দের হাতে কমপক্ষে ৩০জন বাংলাদেশি হত্যা হয়েছে। এর মধ্যে ৬জনের মৃত্যু খুবই দুঃখ জনক। ভারতের অংশে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার কারণে সহজে কোন কিছু করা যাচ্ছে না বলে জানালেন চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ অমুল্য কুমার চৌধুরী।

    কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় চুনারুঘাট উপজেলাসহ সীমান্ত এলাকায় তোলপাড় দেখা দিয়েছে। ভারতীয়দের হাতে ঘন ঘন বাংলাদেশি হত্যার ঘটনাকে সহজে কেউ মেনে নিতে পারছে না।

    সীমান্ত গ্রামবাসীদের মধ্যে চলছে আতংক আর শোকের মাতম। সীমান্ত হত্যা রোধ করতে ভারতের পররাষ্ট মন্ত্রী ও বাংলাদেশের পররাষ্ট মন্ত্রীদের মাঝে অনেকবার বৈঠক হলেও তার কোন সমাধা অধ্যবধি পর্যন্ত হয়নি। বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা রোধ করতে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষন করছেন সীমান্তবাসী।