৬ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত শ্রীমঙ্গলে লাল সবুজের পতাকা উড়ে

0
240

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আজ ৬ ডিসেম্বর রোজ মঙ্গলবার।ঐতিহাসিক শ্রীমঙ্গল এলাকা হানাদার মুক্ত দিবস। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর আয়োজনে সকাল দশটায় র‍্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এতে সভাপতিত্ব করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলি রাজিব মাহমুদ মিঠুন ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভানু লাল রায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ।
এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের এই দিনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয়েছিল। তবে এর আগে হানাদার বাহিনীর সাথে লড়াই করে নিহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষ।

বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের সূত্র ও ঐতিহাসিক তথ্য মতে ১৯৭১সালের ৩০ এপ্রিলের পর থেকে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে অর্ধশতাধিক মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নারী-পুরুষদের বিভিন্ন সময়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন সম্ভ্রম খুইয়েছেন হাজারো নারীর।
জানা যায়,১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে সারা বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের সাথে সাথে শ্রীমঙ্গলে ও অসহযোগ আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করে। তৎকালীন সরকারী অফিস-আদালত,চা শিল্প,শ্রমজীবী সহ সকল মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় ভীতিকর পরিস্থিতি।

আর এই অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ ৯ মাস পাক হানাদার বাহিনী দেশব্যাপী গণহত্যা চালিয়েছিল। শ্রীমঙ্গলে ফিনলে টি কোম্পানির ভাড়াউড়া চা বাগান এলাকায় বধ্যভূমিতে ৪৭ জন চা শ্রমিককে একসঙ্গে দাঁড় করিয়ে গুলি ছুঁড়ে হত্যা করেছিল পাক-হানাদার বাহিনী। ভাড়াউড়া চা বাগানে কলেজ রোডস্থ সেখানে নির্মিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সৌধ আজও কালের কালের স্বাক্ষী বহন করে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বর্তমান ৫ নং কালাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মতলিব বলেন, ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চের ভাষণের পর আমরা প্রতিদিন শ্রীমঙ্গলের রাস্তাঘাটে মিছিল-মিটিং করেছি। সর্ব শেষ মিছিল করে কাকিয়া বাজার সিরাজনগর লামুয়া, কালাপুরের লোকজনসহ আমরা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদ পেলাম পাকবাহিনীর গাড়ির বহর আসছে আমরা তখন মেইন রাস্তা ছেড়ে দিয়ে আশপাশে বিভিন্ন পুকুরপাড়ে ঝোপ জঙ্গলের দিকে লুকিয়ে পড়ি। যতটুকু মনে পড়ে ঐদিন লামুয়া গ্রামের হরমুজ উল্লাহ মিছিল শেষে লাঠি হাতে যাওয়ার পথে পাকবাহিনীর গাড়ি থেকে তাকে গুলি করে হত্যা করে।
অনেকে বলছেন তিনি প্রথম শহীদ।
এছাড়াও শ্রীমঙ্গলে আরো বেশ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে ৯ মাসের পাকবাহিনীর অত্যাচারে অনেক নির্দোষ মানুষ জীবন দিয়েছে এরমধ্যে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের হবিগঞ্জ রোডস্থ ওয়াপদার অফিসের পিছনে একটি ছড়ায় ও বর্তমান বিজিবি সেক্টরের সাধু বাবার বটতলা সিন্দুর খান জয়বাংলা বধ্যভুমি, পূর্বাশা বধ্যভুমিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পাক বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছিল।
ঐ সমস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে অনেকদিন মুক্তিযোদ্ধাকে এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনকে হত্যা করা হয়েছে।

সর্বশেষে মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে ভারতের সীমান্ত থেকে মুক্তি বাহিনী ক্রমশ ক্যাম্প অভিমুখে এগিয়ে আসার সংবাদ পেয়ে পাক হানাদার বাহিনী ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।

প্রতিকূল অবস্থা দেখে পাক হানাদার বাহিনী ৬ ডিসেন্বর ১৯৭১ ইং তারিখ ভোরে পালিয়ে মৌলভীবাজারে আশ্রয় নেয় এবং মুক্ত হয় শ্রীমঙ্গল এলাকা। উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা।
দিবসটি পালন বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন 6 ডিসেম্বর সকাল দশটায় রেলি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সন্ধ্যায় একাত্তরটি ফানুস উড়ানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনভর নানা ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালন করবেন।