‘নাও বাইয়া দে’ সেনানিবাস উদ্বোধন শেষে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

0
253

নিজস্ব প্রতিবেদক,আমার সিলেট টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ মিঠামইনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাস” উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই সেনানিবাসটি ২৭৫ একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন ৩ উপজেলার কেন্দ্রস্থল মিঠামইনে মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ১১টায় হেলিকপ্টারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।সেখানে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি “বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাস”র উদ্বোধন করেন এবং উদ্বোধনে দেশ ও জাতির জন্য সম্মিলিতভাবে মোনাজাত করা হয়।

প্রথম পর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ সেনানিবাস উদ্বোধন শেষে তিনি রাষ্ট্রপতির কামালপুর গ্রামের পৈত্রিক বাড়িতে যান। সেখানে তিনি সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কয়েকজন সফরসঙ্গীকে নিয়ে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এসময় সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায় রাষ্ট্রপতির বাড়িতে ২৩ জাতের হাওরাঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের ।

মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে মিঠামইনে সুধী সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হক।এ সময় বিভিন্ন জেলাশহরসহ হাওরাঞ্চলের হাজারো নারী পুরুষের সমাগম ঘটে মূল স্টেইজে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাধ্যবাধকতা থাকায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা লোকজন প্রধানমন্ত্রীকে বহুদূর থেকে এক নজর দেখে দেখে স্রোতের ন্যায় এসেছেন আবার স্রোতের নেই চলে যেতে দেখা যায়।মানুষের পদধূলিতে অন্ধকার হয়ে পড়ে এলাকা। মূল সড়কগুলো ছিল ভরপুর।একই সাথে মানুষের আশা এবং যাওয়ার কারণে সভাস্থলের আশেপাশে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে বলে সকাল থেকে নিরাপত্তায় থাকা কর্মীরা আমার সিলেটকে জানিয়েছে ।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাও ভাইয়া দেয় বলে অবস্থিত জনতাকে বারবার নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি বলেন আপনারা বারবার ভোট দেওয়ার কারণেই আমরা এই অঞ্চলে উন্নয়ন ঘটাতে সম্ভব হয়েছিভবিষ্যতে আরো উন্নয়ন হবে তবে এই এলাকায় উড়াল উড়াল সেতু ছাড়া আর কোন দীর্ঘ রাস্তা হবে না।

দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নির্মাণ করা হয়েছে বহু দৃষ্টিনন্দন তোরণ। বক্তৃতার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে সুদৃশ্য নৌমঞ্চ। মিঠামইনে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কয়েক দিন ধরে আনন্দ মিছিল করেছে। সেনানিবাস থেকে রাষ্ট্রপতির বাড়ি যাওয়ার রাস্তা কামালপুর ফায়ার সার্ভিস অফিস এলাকা থেকে বক্তৃতা মঞ্চ পর্যন্ত এক ডজনের অধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। ফেস্টুন দিয়ে রাস্তার দু’পাশ সুসজ্জিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে মঞ্চ পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশ সাদা কাপড়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। আবদুল হামিদ যখন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বরেও একবার শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মিঠামইন এসেছিলেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও মিঠামইনে একসঙ্গে মিলিত হলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

প্রবেশাধিকার সীমিত থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য জেলার অন্যান্য উপজেলাসহ হাওরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে লাখো মানুষের যাতায়াত ঘটে। ট্রলারযোগে মিঠামইনে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও প্রচুর লোক এসেছেন নৌপথে। যদিও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ির কারণে তাঁদের সমাবেশস্থল থেকে অনেক দূরে থাকতে হয়। তার পরও পুরো হাওরাঞ্চল লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সফর ও জনসভাকে কেন্দ্রে করে কিশোরগঞ্জের এই হাওর অঞ্চলে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সোমবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কয়েক হাজার বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ ও মোটরসাইকেল,টমটম,ব্যাটারি চালিত বিভিন্ন গাড়ি ও ট্রলি চড়ে হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে উপস্থিত হতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ দুই যুগ পর অর্থাৎ সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার মিঠামইন সফর করেন। আবদুল হামিদ তখন ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার।

রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আমলে হাওরের এত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এক সময় হাওরে মানুষ আসতে চাইত না, আর এখন দেখতে আসে। প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কারণেই এই উন্নয়ন হয়েছে।”

তবে টানা তিন মেয়াদে থাকা বর্তমান সরকারের আমলে অলওয়েদার সড়ক ও সাব মার্জিবল (ডুবো) সড়ক নির্মাণ, স্কুল-কলেজ সরকারিকরণ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ ও গতি এসেছে। অনেক বেড়েছে শিক্ষার হার, ফসলের উৎপাদন।