মৌলভীবাজারে বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য দমন বিষয়ক প্রশিক্ষণ

0
1136
মৌলভীবাজারে বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য দমন বিষয়ক প্রশিক্ষণ

আলী হাসেন রাজন,মৌলভীবাজারঃ বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য দমনসহ বাংলাদেশের সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণীর অস্তিত্ব বিলীনের জন্য দায়ী সব ধরনের হুমকি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য এবং বন্যপ্রাণী ব্যবসা-বাণিজ্য ও এ সংক্রান্ত অপরাধগুলোর প্রতিবেদনের গুণগত মানোন্নয়নে সঠিক ও সম্পূর্ণ প্রতিবেদন লেখার কৌশল, দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৌলভীবাজারে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মৌলভীবাজার শহরের রেস্ট ইন হোটেলের সম্মেলন কক্ষে শনিবার (৬ নভেম্বর ২০২১) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডাব্লিউসিএস) ও বন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এ কর্মশালায় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় , স্থানীয় পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনের  ৪৫ জন গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহন করেন। বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন এর সভপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আলী আহসান। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান, ও মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এ সালাম। কর্মশালার প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন ডাব্লিউসিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী, বন অধিদপ্তরের ড. লস্কর মাকছুদুর রাহমান, লিগ্যাল অ্যাডভাইজার মোঃ তারিকুল ইসলাম, ডাব্লিউসিএস এর কো-অর্ডিনেটর সামিউল মোহসেনিন।

কর্মশালায় বিভিন্ন অনুশীলনে প্রতিবেদনের ত্রুটি ও তথ্য অপ্রতুলতা চিহ্নিত করে সঠিক ও তথ্যবহুল প্রতিবেদন লেখা, নিয়মিতভাবে বাণিজ্যকৃত প্রাণীসমূহ সনাক্ত করার উপায় ও বিশ্বব্যাপী বিপন্ন বন্যপ্রাণীর ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিমালাসমূহ সম্পর্কে সাংবাদিকদের ধারনা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণে বলা হয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সরকারি কর্তৃপক্ষও বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধে উৎসাহী হবেন। এতে বিশ্বব্যাপী বিপদাপন্ন অনেক বন্যপ্রাণী যেমন বাঘ, বনরুই, কচ্ছপ, হাঙ্গর ও শাপলাপাতার বেশ কিছু প্রজাতিকে চিরতরে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে।

এসময় প্রধান অতিথি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আলী আহসান বলেন, বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য দমনে একটা বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা হলো অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা। বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সাংবাদিক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদসহ দেশের প্রতিটি নাগরিককে সরকারের সাথে একযোগে কাজ করতে হবে। আমাদের বন্যপ্রাণীরা আমাদের সম্পদ। যদি আমরা দ্রুতই কোন পদক্ষেপ না নেই অচিরেই আমরা এদের চিরতরে হারিয়ে ফেলবো।

কর্মশালার সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন অতিথিবৃন্দরা।

উল্লেখ্য, ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞান, গণশিক্ষা ও সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম দ্বারা জনগণকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ও তাদের বাসস্থান সংরক্ষণের কাজ করে যাচ্ছে। ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানা ভিত্তিক ডাব্লিউসিএস বৈশ্বিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশ, সকল মহাসাগর, এবং নিউইয়র্কের পাঁচটি বন্যপ্রাণী পার্কে (যা প্রতিবছর প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ পরিদর্শন করে) কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।  ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি, বাংলাদেশে স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এবং সরকারি সংস্থার সাথে সম্মিলিতভাবে জনগণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং বিপদগ্রস্থ বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষা প্রদানে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কার্যকর সমাধান বের করার লক্ষ্যে কাজ করছে।