হবিগঞ্জ পৌর ময়দানে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের বিভাগীয় মহাসমাবেশে জনতার ঢল

0
311

এস এম সুলতান খানঃ কার্যকর স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা, দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতি রোধ, জাতীয় শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় শিক্ষা সংকোচনের প্রতিবাদসহ ১০ দফা দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ব্যবস্থাপনায় আজ ১১ মার্চ ২০২৩ ইংরেজি শনিবার সকাল ১০টায় হবিগঞ্জ পৌর ময়দানে সিলেট বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মতিন। প্রধান বক্তা ছিলেন, দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ স.উ.ম আবদুস সামাদ।
প্রধান অতিথি বলেন, আমাদের দেশে নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ক্ষমতায় থাকার জন্য ও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এ অসুস্থ প্রতিযোগিতার বলী হয় সাধারণ জনগণ। গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার ভুলন্ঠিত হচ্ছে বার বার। এ অবস্থা আর চলতে পারে না। আমরা চাই দেশে সুস্থধারার রাজনীতির বিকাশ হোক, জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত হোক। এ জন্য চাই স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আইন পাশ করে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ও কার্যকর স্বাধীন করতে হবে। অনির্বাচিত তত্ত¡াবধায়ক বা দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারেনা এবং নিরপেক্ষ, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পাদনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি যে স্থায়ী সমাধান নয় তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন দেশের অধিকাংশ মানুষ সূফিবাদী। অথচ সুফিবাদীরা দেশে সবচেয়ে অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত। সুফিবাদী আলেম ও কর্মীদের কোন হত্যা বিচার হয় নি। বাযতুল মুকাররম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ কোথাও সুন্নি জনতার প্রতিনিধিত্ব নেই। দেশের উপজেলা পর্যায়ে নির্মাণাধীন ৫৬০ টি মডেল মসজিদের অধিকাংশই আজ স্বাধীনতা বিরোধী উগ্রবাদীদের দখলে। আমরা সুফিবাদী জনতাকে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে প্রেরিত অর্থে প্রদানসহ অর্থ পাচারকারী, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গীবাদীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। জাতীয় শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় শিক্ষার সংকোচনের প্রতিবাদ জানিয়ে এম এ মতিন বলেন, ধর্মহীন শিক্ষানীতি জাতিকে পঙ্গু করার নামান্তর। অবিলম্বে প্রত্যেক শ্রেণিতে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সাথে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি সম্পাদন, সীমান্তহত্যা বন্ধ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রধান বক্তা অধ্যক্ষ স.উ.ম আবদুস সামাদ বলেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সংস্কার করতে হবে। ক্ষমতার লড়াইয়ে বলী হয়ে জনজীবন বিপন্ন করার অশুভ রাজনীতি সভ্যতার অন্তরায়। সকল দলের অংশগ্রহণ ও সর্বসাধারণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। তাই নির্বাচন কমিশনকে প্রত্যেক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।একই সরকার বার বার ক্ষমতায় আসায় ঘুষ-দুর্নীতি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক দিকে নির্বাচন
অন্য দিকে প্রশাসনে ব্যাপকহারে ঘুষ দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ নিচ্ছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনন্ত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কর্তৃক ঠিকমতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না যে কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করছে। তাদের লাগাম ঠিকমতো ধরতে না পারলে জিনিসপত্রের দাম ভয়াবহ হবে। বিদ্যুত-গ্যাসের একেরপর এক মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনকে অসহনীয় করা হয়েছে, অন্যদিকে পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির কালোবাজারি অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও দ্রব্যসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে আসছে। অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য লাগাম টেনে ধরতে হবে। সাধারণ মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে সিয়াম-সাধনার সুযোগ করে দিন। তিনি পঞ্চগড়ে কাদিয়ানীদের কর্তৃক মুসলমানদের গুলি করে মুসলিম হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।
অধ্যক্ষ গোলাম সরওয়ারে আলমের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশ উদ্বোধন করেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী হারুন। মাওলানা আব্দুল মুহিত হাসানী, মাওলানা সাইফুল মোস্তফা ও নুরুল হক চিশতীর যৌথ পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট আবু নাছের তালুকদার, এম. সোলায়মান ফরিদ, সৈয়দ মুজাফ্ফর আহমদ মুজাদ্দেদী, শাহ জালাল আহমদ আখঞ্জি, অধ্যক্ষ আলী মুহাম্মদ চৌধুরী, অধ্যক্ষ মাসুম বিল্লাহ মিয়াজী, জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী, অধ্যাপক শেখ শহিদুল ইসলাম, মাওঃ ছোলাইমান খান রব্বানী, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আযম, আজিজুল ইসলাম খান, মাওলানা কাজী কুতুব উদ্দীন, কাজী মাওঃ আবুল খায়ের শানু, মাওঃ আব্দুল কাইয়ূম তরফদার, মাওঃ মুসলিম খান, ডাঃ এস.এম সরওয়ার, যুবনেতা আবু নাসের মোহাম্মদ মুসা, জাহিদুল ইসলাম বিএসসি, হাবিবুর রহমান হাবিব, কাউছার আহমদ রুবেল, ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল জাবের, সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বশনী, জেলা ছাত্রসেনা সভাপতি এম.এ কাদির প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।