কুলাউড়া প্রতিনিধি: বিভিন্ন কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারের বাতিঘর, সাবেক জাতীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এএনএম ইউসুফের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দিনভর নানান কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করা হয়।
মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় সকালে পবিত্র কুরআন খতমের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর এক শোক পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে মরহুমের স্মরণে উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা এবং এক অলোচনা সভা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। সবশেষে দুপুরে শিন্নি বিতরণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
মরহুমের প্রতিষ্ঠিত এম এ গণী (ইউসুফ গণী) আদর্শ কলেজ মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অত্র কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, ব্রাম্মণবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মরহুমের জ্যেষ্ঠ পুত্র অ্যাডভোকেট খালেদ লাখীর সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন কলেজের অধ্যক্ষ ও মরহুমের ভাতিজা এএনএম আলম।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন:
নবাব আলী আব্বাস খান, সাবেক সংসদ সদস্য
অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, মরহুমের পুত্র, বিএনপি নেতা, সিলেট বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-সভাপতি
কামাল উদ্দিন আহমেদ জুনেদ, কুলাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র
ফারুক উদ্দিন সুন্দর, এনসিপি নেতা
শাহ আলম সরকার, অত্র কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ
প্রভাষক মো. আব্দুল হামিদ, জামায়াত নেতা
আতিকুর রহমান আখই, সাধারণ সম্পাদক, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি
মো. আব্দুস সালাম, বিশিষ্ট সমাজসেবক (রাজনগর)
শাহানারা রুবি, অধ্যাপিকা, রাজনগর কলেজ
এছাড়াও অনুষ্ঠানে মরহুম প্রতিষ্ঠিত কুলাউড়া কলেজ ও ফুলতলা সাগরনাল শাহনিমাত্রা কলেজের অধ্যক্ষদ্বয় সহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় বক্তারা মরহুম এএনএম ইউসুফের জীবন ও কর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “পশ্চাৎপদ কুলাউড়া অঞ্চলে অসংখ্য বিদ্যাপীঠ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।”
সংক্ষিপ্ত জীবনী ও অবদান:
মরহুম এএনএম ইউসুফ রাজনৈতিক জীবনে ‘বাংলাদেশ মুসলিম লীগ’-এর সভাপতি ছিলেন। তৎকালীন ছাত্রনেতা হিসেবে ঐতিহ্যবাহী সিলেট রেফারেন্ডামে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন লংলা আধুনিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল। শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি নবীনগর ও কুলাউড়া রেলওয়ে ঈদগাহ, রসুলপুর ও কলাবাড়ী মসজিদ প্রতিষ্ঠায় তাঁর মুখ্য ভূমিকা ছিল। তিনি ঢাকা কালেক্টরেট মসজিদ ও শহীদবাগ মসজিদ নির্মাণেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি দেশের আইনজীবীদের সর্বোচ্চ সংস্থা ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’-এর সদস্য ও এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন আইনজীবী সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অবৈতনিক সম্পাদক, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের সভাপতি, ঢাকা ফেডারেল হোমিওপ্যাথিক কলেজের সহ-সভাপতি এবং জগমোহন পাল ট্রাস্টের রিসিভার হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
