আফজাল হোসেন রুমেল, বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী আয়োজনে ফুল দিয়ে শিক্ষকদের বরণ, সম্মাননা স্মারক প্রদান, র্যালি, ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ, আলোচনা সভা, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান শিক্ষার্থীরা।
‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষায় ৬০ বছর, মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ রূপদান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিরা অংশ নেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আব্দুর রব। বিশেষ অতিথি ছিলেন অভিভাবক সদস্য অলিউর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান মোহনা ও খাদিজা আক্তার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী মাহবুব আলম ছামিন। গীতা পাঠ করেন প্রিয়ন্তী পাল এবং বাইবেল পাঠ করেন সারিকা বারেঃ।
আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইজাজুল ইসলাম ও নুজহাত সাহাব ফিহা এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আতিকা উলফাত তাহা ও আরিফা উলফাত রাহা। শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক আশুক আহমদ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বদরুল হক।
বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান প্রদান করেন না; শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে এবং মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তিকে শক্তিশালী করার অংশ।
প্রধান অতিথি আব্দুর রব বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীকে শিক্ষিত করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে আলোকিত করেন। তাই শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া সবার নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠান থেকে ভবিষ্যতে আরও মেধাবী, সৎ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভা শেষে কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষক ও অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
