চিন্ময় দাশ, শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে শাল্লা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সাবেক শিক্ষক মোঃ আব্দুল করিম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ আব্দুল করিম জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া মন্নানপুর গ্রামের শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নে তাঁর বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় ‘মন্নানপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠার জন্য ০.৪২ একর (৪২ শতাংশ) জমি দান করেন। তবে মাদরাসা পরিচালনা কমিটি জমি পেলেও নিজস্ব ভিটি তৈরি করেনি। প্রায় ৬-৭ বছর আগে দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে করিমের পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বসতভিটির পাশে সাময়িকভাবে একটি টিন-বাঁশের ঘর নির্মাণ করে পাঠদান শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থায়ী ভূমিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৪ সালের কালবৈশাখী ঝড়ে অস্থায়ী ঘরটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
আব্দুল করিম জানান, ৩-৪ বছর আগে তাঁরা সেই ভিটিটি অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রয় করেন এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে দানকৃত নিজস্ব জমিতে ঘর স্থানান্তরের জন্য একাধিকবার তাগিদ দেন। সম্প্রতি ক্রেতা উক্ত জমিতে বসতঘর নির্মাণ কাজ শুরু করলে স্থানীয় আমির হুসাইন নামে এক ব্যক্তি ও একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ১২ আগস্ট (বুধবার) সন্ধ্যায় শাল্লা থানা পয়েন্টে আমির হুসাইনের সাথে দেখা হলে সে চড়াও হয়। পরে শাল্লা থানার একজন এসআই ও স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে পরবর্তীতে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এক কাল্পনিক ঘটনার সূত্র ধরে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে আব্দুল করিমকে প্রধান আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আমির হুসাইন।
আব্দুল করিম উক্ত ঘটনাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে কথিত ওই সাংবাদিকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমির ক্রেতা জাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমীর ও ফারুক এসে আমাকে ঘর তৈরিতে বাধা দেয় এবং বলে জমিটি নাকি মাদরাসার। আমি করিম মাস্টারের কাছ থেকে জমি কিনেছি জানালে তারা বলে—করিমের নাম নিলে ঘর তৈরি করতে পারবে, নতুবা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে; না দিলে মামলায় আসামি করা হবে।” চাঁদা দাবির এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান।
এ ব্যাপারে আমির হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “আমি এ সম্পর্কে কিছু জানি না, এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ কিছু বলেনি।”
সংবাদের বিষয়ে অন্যান্য অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
