বিশেষ প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রীসহ দুই চোরাকারবারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানাধীন ০৭ নম্বর রাজঘাট ইউনিয়নের অন্তর্গত উদনাছড়া চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশনের রাস্তায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আবদুল্লাহ আল মামুনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এসআই সজীব চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি পুলিশ টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এসআই মিয়া নাছির, এএসআই হরিদাস, এএসআই আবু হানিফ, এএসআই সঞ্জয় এবং কনস্টেবল সঞ্জয় বাড়াইক।
অভিযানকালে হাতেনাতে গ্রেফতার হওয়া আসামীরা হলেন—উদনাছড়া চা বাগানের ৮ নম্বর বস্তির মদন তাঁতীর ছেলে মিলন তাঁতী (২৮) এবং গনেশ রাজগড়ের ছেলে কাজল রাজগড় (২১)।
আটককৃতদের হেফাজত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিভিন্ন নামীদামী ব্র্যান্ডের ৪৭৩ পিস ভারতীয় প্রসাধনী উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১,৯৯,৫০০ (এক লক্ষ নিরানব্বই হাজার পাঁচশত) টাকা।
জব্দকৃত পণ্যের বিবরণ:
DOT & KEY Vitamin C+E Super Bright Gel Face Wash: ১৪০ পিস,
DOT & KEY Vitamin C+E Super Bright Sunscreen: ৫২ পিস,MARS BB Cream: ১০০ পিস, MARS Kohl of Fame Kajal: ৫০ পিস,Garnier Bright Complete Vitamin C+ Face Wash: ১০০ পিস,1% Salicylic Acid Oil-Free Daily Face Moisturizer: ৩০ পিস,
পুলিশ জানায়, আসামীরা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব মালামাল বাংলাদেশে এনেছিল। উদ্ধারকৃত মালামাল বিধি অনুযায়ী জব্দ করে আসামীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের পর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত দুজন মূলত নির্দিষ্ট মজুরির বিনিময়ে মালামাল বহনের কাজ করতেন। এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতারা এখনো অধরাই রয়ে গেছে। চা বাগানের উক্ত নির্জন পয়েন্টটিকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে একটি চক্র ভারতীয় মালামাল আনা-নেওয়া করছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই মূল কারবারিরা পালিয়ে যায়।
চোরাচালানের মূল হোতাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার বিষয়ে শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ওয়াহিদুজ্জামান রাজু জানান, “আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পূর্বের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রয়েছে।”
