অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা বাংলাদেশ পুলিশের দুই সদস্যকে ১৫ ঘণ্টা পর ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠক শেষে বিজিবির মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের ফেরত দেওয়া হয়।
ফেরত আসা দুই পুলিশ সদস্য হলেন—ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন এবং কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। তারা দুজনই সুস্থ আছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকার ২০৫৯ নম্বর পিলারের কাছে মাদকবিরোধী অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক চোরাকারবারি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান তাকে ধাওয়া করেন। এলাকাটি কাঁটাতারবিহীন হওয়ায় ধাওয়ার একপর্যায়ে তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলেন। এ সময় স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকেরা তাকে আটক করলে তাকে ছাড়াতে যান টিম ইনচার্জ এএসআই ইমরান হোসেন। তখন দুজনকেই আটকে রেখে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় নাগরিকেরা।
পরবর্তীতে বিজিবি ও বিএসএফের টানা যোগাযোগের পর শুক্রবার বেলা ১টা ৩০ মিনিটে নারায়ণপুর সীমান্তের ২০৫৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষে বিএসএফ এবং বাংলাদেশের পক্ষে সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, দেবীদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শাহিন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন এবং শশীদল বিওপি কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে দুপুর পৌনে ২টার দিকে দুই পুলিশ সদস্যকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। পরে বিজিবি প্রতিনিধি দল পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে তাদের সোপর্দ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, “মাদক কারবারিকে ধাওয়া করে ভুলবশত ভারতে প্রবেশ করা দুই পুলিশ সদস্যকে বিজিবির মাধ্যমে আমরা ফেরত পেয়েছি। দায়িত্ব পালনকালে সীমান্ত এলাকায় পুলিশ সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
