নদী-খাল-বিল থেকে জেলেদের জালে উঠছে টাকি, শোল, পাবদা, বোয়াল ও বাগমাছ; বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: বর্ষার পানিতে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে নদী-খাল-বিল ও জলাশয়। আর সেই পানির জোয়ারের সঙ্গেই যেন ছাতকের বাজারে দেখা মিলেছে দেশি মাছের উৎসব। সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ নতুন বাজারসহ বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে এখন নদী ও হাওরের দেশি মাছে সয়লাব।
ভোর হতেই মাছের আড়ত ও বাজারগুলোতে জেলে এবং মাছ ব্যবসায়ীদের কোলাহল শুরু হয়। পছন্দের টাটকা দেশি মাছ কিনতে ভোরেই বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। গোবিন্দগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও জেলেরা সুরমা নদী ও আশপাশের হাওর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির তাজা মাছ বাজারে নিয়ে আসছেন।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, টাকি, শোল, দেশি কৈ, শিং, মাগুর, পুঁটি, পাবদা, চিংড়ি, বোয়াল, বাগমাছ, কাইয়্যা, আইড়সহ নানা প্রজাতির দেশি মাছের সরবরাহ অনেকটাই বেড়েছে। স্থানীয় নদী ও বিল থেকে ধরা এসব মাছ সরাসরি বাজারে আসায় মিলছে শতভাগ টাটকা মাছ।
ক্রেতারা জানান, চাষের মাছের চেয়ে দেশি মাছের প্রতি তাদের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। বিশেষ করে টাকি, শোল, দেশি কৈ ও পাবদা মাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে মাছের আকার ও প্রজাতিভেদে দামে কিছুটা তারতম্য রয়েছে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে জলাশয়ে পানি বাড়ায় দেশি মাছের প্রাপ্যতা বেড়েছে। ফলে বাজারে যেমন বৈচিত্র্য এসেছে, তেমনি বিক্রিও জমজমাট।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দেশি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং রেণু ও পোনা মাছ নিধন বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
