নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি প্রতিবেশী রবিউল শিকদার ওরফে রবিকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নড়াইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি রবিউল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু।
রবিউল ইসলাম ওরফে রবি নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার শিকদারের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই বিকেলে শিশু জান্নাতিকে একটি নির্জন ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন রবিউল। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে রবিউল শিশুটির মরদেহ কাঁথা দিয়ে ঢেকে রেখে সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
সন্ধ্যার পরও জান্নাতি বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শিশুটির মা রবিউলের ঘরের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। এ সময় রবিউল দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে তার সন্দেহ হয়। পরে ঘরে ঢুকে তিনি খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। স্বজনরা দ্রুত শিশুটিকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২১ জুলাই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে রবিউল শিকদার রবিকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। একই দিন সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা রবিউলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ঘটনার প্রতিবাদে নড়াইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। ২২ জুলাই সকালে রবিউলকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ওই রাতেই রবিউল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত শেষে গত ৪ আগস্ট নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু একমাত্র আসামি রবিউল শিকদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর ১১ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত ১৯ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
রায় ঘোষণার দিন বুধবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশি পাহারায় রবিউলকে আদালতে আনা হয়। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিহত শিশুর স্বজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়।
ঘটনার প্রায় এক মাসের মধ্যে এবং বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহত শিশুর স্বজন ও নড়াইলের সচেতন নাগরিকরা।
