নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীমঙ্গল: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ব্যতিক্রমী ‘বইপড়া উৎসব ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবের চূড়ান্ত পর্বে আটটি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জনকারী আট শিক্ষার্থী পেয়েছে ল্যাপটপ ও আকর্ষণীয় পুরস্কার। এ ছাড়া চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া ৭৪০ জন শিক্ষার্থীকে বই ও সনদপত্র দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, বিজয়ী, অভিভাবক, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
‘বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ উৎসবে আটটি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে ল্যাপটপ ও আকর্ষণীয় পুরস্কার পেয়েছে ফাতেমা জাহান, রাজশ্রী হালদার, অদ্রিজা পাল, আসাদুজ্জামান শিহাব, উম্মে কুলসুম মীম, তাসনুভা সুহা, উম্মে নাফিসা মাইমুনাহ ও ফাতেমা সুলতানা।
এ ছাড়া প্রতিটি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জনকারী ছাড়া আরও নয়জন করে শিক্ষার্থীকে সনদ, ক্রেস্ট ও বই দেওয়া হয়। উৎসবের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।
শ্রেণিভিত্তিক বিজয়ী ও পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা
ষষ্ঠ শ্রেণি:
ফাতেমা জাহান, শ্রুতি মালাকার, শেখ মোহাম্মদ জিহান, মেঘা চৌধুরী বিন্দু, শেখ সামারা কারিম, নুসরাত জাহান, আরিফ ইসলাম, সাবিকুন্নাহার সাবা, আদিলা হোসেন ও শ্রেষ্ঠা চক্রবর্তী।
সপ্তম শ্রেণি:
রাজশ্রী হালদার রাজন্যা, তানিয়া আক্তার, রাদেওয়া আহমেদ, দেবার্ঘ্য ভট্টাচার্য্য, সপ্তর্ষি চক্রবর্তী, মাইমুনা আক্তার, তীর্থদ্যুতি পাল, পল্লব দেব, তাহিয়া ইসলাম ও ত্রপা দে।
অষ্টম শ্রেণি:
অদ্রিজা পাল, বিরূপাক্ষ দেবনাথ, মুক্তা রায় মোহনা, অন্বেষা ধর, মোছা. সামিয়া আক্তার, নওশীন কালাম নাফিসা, ফাইমা বেগম, স্নিগ্ধা বণিক, নাবিলা রহমান ও সোমশ্রী শর্মা শ্রুতি।
নবম শ্রেণি:
মো. আসাদুজ্জামান শিহাব, প্রাপ্তি পাল শ্রেয়সী, নাদিরা ইসলাম, নাজমুন নাহার নুসরাত, আহমেদ রেজা সিয়াম, অর্চি দেব, অনুপমা পাল রিমি, দেবাদিত্য ঘোষ, নিকিতা দেব প্রমা ও উপমা কর্মকার।
দশম শ্রেণি:
উম্মে কুলসুম মীম, মাইশা বিনতে হুমায়ুন, কাজরি রায়, রেডওয়ান রাদু চৌধুরী, ঐশী ভট্টাচার্য্য, ইসরাত জাহান উর্মি, অভিরূপ চৌধুরী, সৃষ্টি গাইন, স্বর্ণদ্বীপ পাল ও নিশাত তাসনিম আনিকা।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি:
তাসনুভা সুহা, শ্রেয়সী অধিকারী তাথে, তিথী চক্রবর্তী, রূপা দাশ, সানজিদা আক্তার নুহা, আনিকা তাবাসসুম তিশা, তমা দেবনাথ, সৌরজ্যোতি ধর, পূর্ণা চৌধুরী ও পুষ্পিতা দেবনাথ।
সম্মান (স্নাতক) শ্রেণি:
উম্মে নাফিসা মাইমুনাহ, সন্তোষ কর, নবরূপা দেব, সীমা তাঁতী, প্রান্ত পাল, আহনাফ হোসেন, আলী আহসান আল আমিন, মৌমিতা পাল ও শাওন চক্রবর্তী।
উন্মুক্ত (অংশগ্রহণকারী):
ফাতেমা সুলতানা, রাজু বিশ্বাস, মো. নাজমুল আলম, উজ্জ্বল সূত্রধর, জহিরুল ইসলাম, মো. সুমন, কাজী শওকত হোসেন, শিমুল তরফদার, জলি পাল ও নয়ন মনি পাল।
অতিথিদের বক্তব্য ও আয়োজনের উদ্দেশ্য
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক দেবাশীষ দাশ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সমাপনী আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে পাঠাভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে আনা এবং নিয়মিত পাঠক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে গত জুলাই মাসে ইউএনও মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এ উৎসব শুরু হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, তিন ধাপে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে উপজেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
উৎসবে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ ও জীবনীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৩৮টি বই পড়তে দেওয়া হয়। ‘মুকুল’, ‘ফুল’ ও ‘ফল’—এই তিন ধাপে উৎসবটি সাজানো হয়। প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত বই পড়ার পর মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপে উন্নীত করা হয়।
অনুষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ বিতরণের ব্যাপারে এমপি আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “আমরা এবছরে আটজনকে উন্নতমানের ল্যাপটপ দিয়েছি আগামীতে আমরা এর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করার চেষ্টা করবো।”
অনুষ্ঠানে ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠাগারচর্চা নতুন করে সচল হয়েছে। এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি বিকাশে এবং ভবিষ্যতে দেশ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
