সাইফুল ইসলাম তালুকদার: সৌদি আরবে সংঘাতের জেরে বিমান চলাচলে বিঘ্ন, ফ্লাইট বাতিল এবং কর্মস্থলে ফিরতে না পারার অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের নতুন উদ্বেগের মুখে ফেলেছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধের কারণে হাজারো যাত্রীর দুর্ভোগের খবর এসেছে। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা, কেউ হারানোর ভয় করছেন চাকরি, আবার কেউ বিদেশে যাওয়ার জন্য ঋণ করে জোগাড় করা অর্থের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। তাঁদের কাছে একটি ফ্লাইট বাতিল হওয়া নিছক যাত্রা পিছিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের জীবিকা, ঋণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু পররাষ্ট্রনীতি বা নিরাপত্তার বিষয় নয়। এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে দেশের শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স প্রবাহ, বৈদেশিক মুদ্রার জোগান এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
হামলা ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন
১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। প্রাথমিক সংবাদ প্রতিবেদনে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার কথা জানানো হয়। পরদিন বিমানবন্দরে আরেকটি হামলার খবরও প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, এসব হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং আরও ২৪ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের এই ঘটনা প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আহতদের চিকিৎসা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।
১৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলা ও নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ৬২টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৬৭৪ জন যাত্রী। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ২৩টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৩৯টি।
তবে ১২ অক্টোবর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ৫১টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। এর মধ্যে ১২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল। উল্লেখ্য, ক্ষতিগ্রস্ত সব ফ্লাইট বাতিল হয়নি; কিছু বাতিল, কিছু স্থগিত এবং কিছু অন্যভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল। দুই দিনের পরিসংখ্যানের এই পার্থক্য পরিস্থিতির পরিবর্তন ও তথ্য হালনাগাদের বিষয়টি তুলে ধরে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটের ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে, ১২ অক্টোবরের আরেক প্রতিবেদনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল থাকার কথা জানানো হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় যাত্রীদের বিকল্প যাত্রাপথের তথ্য দেওয়া এবং আটকে পড়া ব্যক্তিদের সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনিশ্চয়তায় সৌদিগামী কর্মীরা
সৌদি আরবে নতুন চাকরি নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কিংবা ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া কর্মীদের জন্য ফ্লাইট বাতিল বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিতে না পারলে ভিসার মেয়াদ, নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তি এবং চাকরি বহাল থাকা নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
একজন কর্মী বিদেশে যাওয়ার আগে ভিসা, মেডিকেল পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ, বিমানভাড়া ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেন। অনেকেই জমি বন্ধক রেখে কিংবা ধারদেনা করে এই অর্থ জোগাড় করেন। অথচ সংঘাত বা বিমান চলাচলে বিঘ্ন তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই এই পরিস্থিতিতে কাজে যোগ দিতে বিলম্বের দায় যেন একতরফাভাবে কর্মীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর আলোচনা প্রয়োজন।
সরকারের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো, কাজে যোগদানের সময়সীমা শিথিল করা এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তি বহাল রাখার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া। যাঁরা বিমানবন্দর বা অন্য কোথাও আটকা পড়েছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য, যোগাযোগ ও জরুরি সহায়তার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
রেমিট্যান্সে ঝুঁকি, অর্থনীতিতে প্রভাব
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নির্মাণ, পরিবহন, পরিচ্ছন্নতা, উৎপাদন, গৃহস্থালি, সেবা ও কারিগরি পেশায় নিয়োজিত। তাঁদের পাঠানো অর্থে দেশের অসংখ্য পরিবারের সংসার চলে। এই অর্থ শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে দেশে ৫৮৪.৯১ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৭.২ শতাংশ বেশি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এসেছে ১১৪.৫৯ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯.১ শতাংশ বেশি।
এই পরিসংখ্যান সৌদি আরবের শ্রমবাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গভীর সম্পর্ক তুলে ধরে। তবে সংঘাতের কারণে রেমিট্যান্স কমে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো ঠিক হবে না। বরং সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়া, চাকরি হারানো, নতুন কর্মী নিয়োগ সীমিত হওয়া কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তখন কর্মীদের আয় এবং দেশে অর্থ পাঠানোর সক্ষমতা চাপে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।
এ কারণে সরকারকে নিয়মিত রেমিট্যান্সের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানো সহজ করা, বকেয়া বেতন আদায়ে সহায়তা এবং কর্মীদের আর্থিক অধিকার রক্ষায় দূতাবাসের ভূমিকা জোরদার করা জরুরি।
শ্রমবাজার রক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রথম করণীয় সৌদি আরবের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোথায় কতজন বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন, কারা নিরাপত্তাঝুঁকিতে আছেন, কারা কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না এবং কার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এসব তথ্য হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, দূতাবাস এবং জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। জরুরি হটলাইন, নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি এবং সহজবোধ্য নির্দেশনার মাধ্যমে প্রবাসীদের নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে হবে। এতে গুজব ও বিভ্রান্তি কমবে এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা পাওয়া সহজ হবে।
আহত কর্মীদের চিকিৎসা, নিহতদের মরদেহ দেশে আনা, ক্ষতিপূরণ আদায় এবং তাঁদের পরিবারের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করতেও সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়া কর্মীদের পুনর্বাসন ও পুনঃকর্মসংস্থানের পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
প্রবাসীদের জন্য জরুরি সুরক্ষা তহবিল
সংকটের সময় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন সীমিত আয়ের কর্মীরা। হোটেলে অতিরিক্ত দিন থাকা, নতুন করে বিমান টিকিট কেনা, খাবার ও যাতায়াতের খরচ বহন করা কিংবা দীর্ঘ সময় বেতন ছাড়া থাকা—এসব পরিস্থিতি তাঁদের আর্থিক দুরবস্থা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক কর্মীর কাছে জরুরি খরচ মেটানোর মতো সঞ্চয় থাকে না। ফলে সামান্য বিলম্বও পরিবারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রবাসী কল্যাণ তহবিলের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য সাময়িক আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, দেশে ফেরার ব্যবস্থা এবং আইনি পরামর্শ নিশ্চিত করতে দূতাবাসের প্রস্তুতি থাকতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা, নিয়োগকর্তা ও জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যয়ের দায় নির্ধারণ করতে হবে।
একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের ভ্রমণবিমা, নিয়োগচুক্তির কপি, দূতাবাসের জরুরি যোগাযোগ নম্বর এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে আগেই সচেতন করা দরকার। সংকটের সময় এসব প্রস্তুতি কর্মীদের অসহায়ত্ব কমাতে পারে।
বিকল্প শ্রমবাজার ও দক্ষতা উন্নয়ন
সৌদি আরবের মতো বৃহৎ শ্রমবাজারের বিকল্প রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমান সংকট বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার বহুমুখী করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য বাজারে চাহিদাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান করা যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। ভাষাশিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের সনদ, নিয়োগচুক্তির স্বচ্ছতা এবং কর্মীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং প্রতারণামূলক নিয়োগ বন্ধ করাও জরুরি।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে যে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, তা কাজে লাগানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিকে সৌদি শ্রমবাজার থেকে সরে আসার কারণ হিসেবে না দেখে বরং দ্বিপক্ষীয় শ্রম সহযোগিতা এবং কর্মীদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
জ্বালানি ব্যয়েও বাড়তে পারে চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব শ্রমবাজারের বাইরেও পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও।
বাংলাদেশ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে জ্বালানি আমদানি করে। তাই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যপরিবর্তন, পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহের উৎস, জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার এবং অপচয় কমানোর উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
সংকটকে প্রস্তুতির সুযোগে রূপ দিতে হবে
সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। প্রবাসীদের শ্রম ও উপার্জন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় তাঁদের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও আর্থিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও জরুরি।
প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভিসা ও নিয়োগচুক্তির সুরক্ষা, রেমিট্যান্সের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ, বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জ্বালানি আমাদানির ঝুঁকি মোকাবিলা—সবকিছুকে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।
সৌদি আরব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ছিল, এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি, সময়োপযোগী কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং প্রবাসীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ। কারণ প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা রক্ষা করা মানে শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন রক্ষা করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবারের ভবিষ্যৎ, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সম্ভব। প্রস্তুতিতে দেরি হলে আন্তর্জাতিক সংঘাতের মূল্য দিতে হতে পারে দেশের পরিশ্রমী প্রবাসী জনগোষ্ঠী এবং তাঁদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি নিয়োগকর্তা, বিমান সংস্থা, জনশক্তি রপ্তানিকারক এবং প্রবাসী সংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু সংকটের সময় তৎপরতা দেখানো নয়, নিয়মিত প্রস্তুতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে কার্যকর সুরক্ষার ভিত্তি। প্রবাসীদের অধিকার রক্ষাকে জাতীয় অগ্রাধিকারে স্থান দিতে পারলেই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় বাংলাদেশ আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
লেখক: সভাপতি, প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি (প্রসাস), ইউএই।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
