জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমদানি-রপ্তানি কেন্দ্র তামাবিল স্থলবন্দর, যা বরাবরই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। পবিত্র ঈদের ছুটি শেষে পুনরায় চালু হয়েছে বন্দরটির কার্যক্রম।
বন্দর চালু হওয়ার পরপরই ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পাথর আমদানি শুরু করেছেন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত নিয়ম মেনে যানবাহনের পরিমাপ ও ওজন নির্ণয়ের পর আমদানিকৃত পণ্য খালাস করছে।
সম্প্রতি একটি সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আরও গুরুত্বের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং রাজস্ব আদায় জোরদার করেছে।
এ বিষয়ে তামাবিল পোর্টের ব্যবসায়ী মিছবাহুল আম্বিয়া বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে ভারত থেকে পাথর আমদানি করছি। এখানে সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো কিছু হচ্ছে না। একটি পক্ষ বন্দরকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করছি।”
আরেক ব্যবসায়ী মো. শাহরব বলেন, “তামাবিল স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে আমরা ব্যবসা পরিচালনা করছি এবং নিয়ম অনুযায়ী সরকারকে রাজস্ব প্রদান করছি। পাথর আমদানির ফলে এ অঞ্চলের অনেক শ্রমিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যথায় তারা বেকারত্বের কারণে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারতেন।”
তিনি আরও বলেন, “একটি স্বার্থান্বেষী মহল বন্দরকে ঘিরে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর।”
তামাবিল স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম শাহপরান ও ফখরুল ইসলামসহ উপস্থিত ২০-২৫ জন ব্যবসায়ী জানান, সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ পাথরসমৃদ্ধ এলাকা। তবে সরকারি কোয়ারি বন্ধ থাকায় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে বৈধভাবে পাথর আমদানি কিছুটা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং সরকারও নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব পাচ্ছে।
তারা অভিযোগ করেন, একটি চক্র শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে তামাবিল পোর্টের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে বন্দর পরিচালনা করছি। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম নেই। সংবাদ প্রকাশের পর আমরা আরও কঠোরভাবে তদারকি করছি।”
তামাবিল কাস্টমস সুপার শ্রাবানা বলেন, “অনিয়মের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে বিষয়টি নজরে আসার পর থেকে প্রতিটি গাড়ি আরও কঠোরভাবে ওজন ও পরিমাপ করে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। আমরা সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানাই।”
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
