সালেহ আহমদ (স’লিপক): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ফলে এই আসনে নির্বাচন এখন পরিণত হয়েছে ধান, ঘোড়া ও চেয়ার প্রতীকের মধ্যে এক ত্রিমুখী প্রতিযোগিতায়।
বর্তমানে এ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির ড. রেজা কিবরিয়া (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া (ঘোড়া) এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মুফতি বদরুর রেজা সেলিম (চেয়ার)।
ড. রেজা কিবরিয়া ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইমেজের কারণে শক্ত অবস্থানে থাকলেও দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার উপস্থিতি তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে শেখ সুজাত মিয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী ভোটব্যাংকের কারণে অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
বৃহত্তর সুন্নী জোটের একক প্রার্থী হিসেবে মুফতি বদরুর রেজা সেলিম দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। সুন্নী ভোটব্যাংক, ধর্মীয় অনুসারীদের সমর্থন এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা তাকে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরী (রিকশা) ও বাংলাদেশ জাসদের কাজী তোফায়েল আহমেদ (কার) সীমিত পরিসরে লড়াইয়ে সক্রিয় রয়েছেন।
এই আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট বিভাজনের আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। ধানের শীষের ভোট যদি দুই ভাগে বিভক্ত হয়, তবে তার সরাসরি সুবিধা পেতে পারেন চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী।
পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অনুপস্থিত ভোটব্যাংক, জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাহার, প্রবাসী ভোটারদের ভূমিকা এবং ধর্মভিত্তিক মেরুকরণ—সব মিলিয়ে ফলাফল হয়ে উঠেছে অনিশ্চিত।
সার্বিকভাবে বলা যায়, হবিগঞ্জ-১ আসনে এবারের নির্বাচন নির্ভর করছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্য, ভোট বিভাজনের মাত্রা এবং সুন্নী ভোটের সমন্বয়ের ওপর। শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোটারদের নীরব সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বিজয়ের ভাগ্য।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
