শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক নারীর হাত থেকে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় এক নারী শপিং করতে গেলে তার হাত থেকে এক ব্যক্তি মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটি দেখে আশপাশের পথচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে ছিনতাইকারীকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করে।
এ সময় উত্তেজিত জনতা প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং একপর্যায়ে মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে চৌমুহনা চত্বরে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে জনতার উত্তেজনা বেড়ে গেলে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন এবং পরে আবারও তাকে মারধর করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি মোবাইলটি চুরির কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। তবে সে দাবি করে, অন্য একজনের মাধ্যমে মোবাইলটি তার কাছে এসেছে। যদিও উপস্থিত লোকজনের দাবি, সে নিজেই মোবাইলটি ছিনতাই করেছে।
ঘটনার পর উদ্ধারকৃত মোবাইলটি ভুক্তভোগী নারীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং আটক ব্যক্তিকে শ্রীমঙ্গল থানায় নেওয়া হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার ডিউটি অফিসার আবু তালেব জানান, আটক ব্যক্তির নাম মুত্তাকিন। তার পিতার নাম আকদ্দস এবং বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার উত্তর জয়পাশা এলাকায়।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, চুরির ঘটনা ঘটলেও এবং হাতেনাতে আটক করা হলেও অভিযুক্তকে খুব কাছেই থাকা থানায় (প্রায় ৫–৭শ ফুট দূরে) নিয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু তা না করে যেভাবে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে, এমনকি পুলিশ সদস্যের হাতে থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রহার করতে দেখা গেছে,যা দেশের জন্য একটি ক্ষতিকর প্রবণতা।
তাদের মতে, এ ধরনের আচরণ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল, যা আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং সমাজকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়। এ ধরনের প্রবণতা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা প্রয়োজন, অন্যথায় ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
