আমার সিলেট,বিশেষ প্রতিনিধি,ঢাকা: যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নং কালাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত লামুয়া গ্রামের স্বনামধন্য সাবেক শিক্ষক মরহুম আব্দুল গফুর মাস্টার সাহেবের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
অত্যন্ত দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই কর্মকর্তা এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রদূত হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শীর্ষ পদে মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতের মতো একজন সিনিয়র এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে ব্রিটেনের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও বেগবান হবে।
তিন দশকের সমৃদ্ধ কূটনৈতিক ক্যারিয়ার
মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১১তম ব্যাচের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর থেকে গত তিন দশকে তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ও মিশনে অনন্য দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত ছিলেন, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত (২০২২–বর্তমান):
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় করেন তিনি। এই সময়ে তিনি বিশ্বমঞ্চে বেশ কিছু মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক কমিটির নেতৃত্ব দেন:
জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (PBC) সভাপতি: ২০২২ সালে বহুপাক্ষিক কূটনীতির অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম জাতিসংঘের পিসবিল্ডিং কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।
ইউএনডিপি/ইউএনএফপিএ/ইউএনওপিএস-এর নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি: ২০২৩ সালে জাতিসংঘের অন্যতম বড় তিনটি সংস্থা—ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ এবং ইউএনওপিএস-এর যৌথ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি হিসেবে সফলতার সাথে নেতৃত্ব দেন।
২. ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত:
জাতিসংঘে যোগদানের ঠিক পূর্ববর্তী সময়ে তিনি ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। একই সাথে তিনি এস্তোনিয়া এবং আইসল্যান্ডের সমবর্তী (Concurrent) রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও সবুজ জ্বালানি সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি জোরদারে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন।
৩. ওমানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার/রাষ্ট্রদূত:
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ওমানে বাংলাদেশের দূত হিসেবে অত্যন্ত সফল ছিলেন মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, কনসুলার সেবা সহজীকরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষায় তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়।
৪. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদবী:
বিদেশে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘আমেরিকা অনুবিভাগ’-এর মহাপরিচালক (Director General) হিসেবে নীতিনির্ধারণী কাজ করেছেন। এছাড়া কর্মজীবনের শুরুর দিকে তিনি ওয়াশিংটন ডিসি, কুয়েত ও রোমে বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।
পটভূমি ও শিক্ষাজীবন
কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতির ওপর দেশ-বিদেশে নানা উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লন্ডনে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষা, ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য কূটনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বের ক্ষেত্র প্রসারে নবনিযুক্ত এই হাইকমিশনারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ প্রমাণিত হবে। খুব শীঘ্রই তিনি লন্ডনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
