মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: কুলাউড়া-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কে গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশির নামে এক সাংবাদিকের পরিবারকে জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল লুট করার পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়িটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গাড়িটি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
২৮ জুন রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার সংলগ্ন লুহাইনি চা-বাগান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়,
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাছুম আহমদ সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার পৌরসভার শুভাতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক সম্ভাবনা পত্রিকার সম্পাদক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে সাংবাদিক মাছুম আহমদ তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারযোগে ঢাকার দিকে রওনা হন। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে গাড়িটি কুলাউড়া-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের লুহাইনি পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের পোশাক পরিহিত ৩ জন ব্যক্তি গাড়িটি থামানোর সংকেত দেয়।
পুলিশ মনে করে চালক রেজাউল গাড়িটি থামালে তল্লাশির নামে তাকে গাড়ি থেকে নামানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে চা-বাগান থেকে আরও ৫ থেকে ৬ জন সশস্ত্র যুবক এসে চালক ও আরোহীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়।
ডাকাতরা ভুক্তভোগীদের ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে জঙ্গলে ফেলে রাখে। তারা চিকিৎসার জন্য রাখা নগদ ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, ৩টি দামী মোবাইল ফোন, রূপার চেইনসহ মূল্যবান সামগ্রী এবং ঢাকা মেট্রো গ-২৯-৮৭০৮ নাম্বারের প্রাইভেট কারটি নিয়ে মৌলভীবাজারের দিকে পালিয়ে যায়।
ট্র্যাকিং ডিভাইসের মাধ্যমে গাড়ি উদ্ধার
ডাকাতির শিকার সাংবাদিক মাছুম আহমদ জানান, গাড়িটি ছিনতাই করে নিয়ে গেলেও তাতে জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস সচল ছিল। ট্র্যাকিং লোকেশন অনুসরণ করে সোমবার সকালে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার তেলিয়াপাড়া রোডের একটি বাসার সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় গাড়ির ভেতরে বা আশেপাশে কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, গাড়িটি ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। এই চক্রটির সাথে কারা জড়িত তা শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
