নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার: সন্তানের পিতৃত্ব নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে ভুক্তভোগী নারী, তাঁর শিশু সন্তান এবং অভিযুক্ত এক পুলিশ কনস্টেবলের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মৌলভীবাজার জেলা শাখা।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত কনস্টেবল মৃণাল কান্তি দাশ পূর্বে মৌলভীবাজারের রাজনগর থানায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ থানায় কনস্টেবল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে নারী গর্ভবতী হন এবং একটি সন্তানের জন্ম দেন। পরে অভিযুক্ত সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন এবং ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ভুক্তভোগী নারী সন্তানের পিতৃত্ব, আইনি অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতির দাবিতে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই মৌলভীবাজার জেলা শাখাকে প্রদান করেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার ভুক্তভোগী নারী, তাঁর শিশু সন্তান এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল সন্তানের পিতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। পরীক্ষার ফল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর আদালত প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
