জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১০ জন বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। একই ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, সাতজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গোয়ালবাড়ী এলাকা থেকে বিজিবির পাহারায় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাদের ফুলতলা সীমান্তের দিকে নেওয়া হয়। পরে শিলুয়া এলাকায় তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাদের বড়লেখার দিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, তারা নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। বিভিন্ন সময়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে গিয়ে গুজরাটসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর বিএসএফ তাদের কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।
পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা আক্তার (৮), সুবা আক্তার (৩২), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), সাব্বির শেখ (১৯), লাইলী খাতুন (২৮) ও সালমা খাতুন (২৭)। তাঁদের মধ্যে নয়জনের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়।
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম অভিযোগ করেন, পুশইনের তথ্য সংগ্রহের সময় ৫২ বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট সরিয়ে ফেলতে তাকে চাপ দেওয়া হয়। পরে তাকে না পেয়ে তার ছোট ভাই তৌহিদ আলমকে লাঠিটিলা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, পরে মোটরসাইকেলে ব্যারিকেড দিয়ে তাকে আটকের চেষ্টা করা হয়। এ সময় লাঠির আঘাতে মোটরসাইকেলের পার্কিং লাইট ভেঙে যায়। পরে মোটরসাইকেলটি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হলে সেটি এখনো বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।
এ বিষয়ে ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান খান বলেন, “সীমান্তে পুশইনের বিষয়ে বিজিবির অবস্থান জিরো টলারেন্স। সীমান্ত নিরাপত্তায় বাহিনী সর্বদা সতর্ক রয়েছে।” তবে জুড়ী সীমান্তের এ অভিযোগ ও সাংবাদিককে হেনস্তার বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সর্বশেষ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিস্তারিত পরবর্তী সংবাদে দেখুন……
