নিজস্ব প্রতিবেদক,শ্রীমঙ্গল: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া হত্যা, ডাকাতি, চুরি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলার পলাতক এবং তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্টভুক্ত) আসামি ফুল মিয়া (৫৬)কে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।
সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যার আগে শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান এলাকার বটতলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ফুল মিয়া শ্রীমঙ্গল উপজেলার শংকরসেনা গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, সিলেটের বালাগঞ্জ ও কানাইঘাট এবং হবিগঞ্জের বাহুবল থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, চুরি ও অন্যান্য অভিযোগে অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও (ওয়ারেন্ট) বিচারাধীন ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশের অভিযোগ, গ্রেপ্তার এড়াতে ফুল মিয়া সবসময় সঙ্গে দেশীয় ধারালো অস্ত্র বহন করতেন। অভিযানের সময়ও তিনি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তবে অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা কৌশল ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
পুলিশ জানায়, অভিযানে এসআই ইমানুরের উপস্থিত বুদ্ধি এবং এসআই হারুনুর রশিদ, এসআই নাসির উদ্দিন, এএসআই দিদার, এএসআই সরাফত, এএসআই হানিফ ও এএসআই সুমনসহ পুলিশের একটি বিশেষ দলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ফুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর ছিল। পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।”
পুলিশের পিসিপিআর (PCPR) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, ডাকাতি, চোরাই মাল গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের মামলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের ডাকাতির মামলা, ২০১৬ সালের একাধিক ডাকাতির মামলা, ২০১৪ সালের বালাগঞ্জ থানার মামলা এবং ২০০৯ সালের বাহুবল থানার হত্যা মামলা। এছাড়া শ্রীমঙ্গল ও কানাইঘাট থানায়ও বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ফুল মিয়াকে শ্রীমঙ্গল থানা হাজতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এ আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।
