ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ ডিপ্লোমেসি চাকমার সাথে কর্মরত সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আর সেই সভাতেই ইউএনওর কণ্ঠে বেজেছে স্বচ্ছতা, সততা ও দায়বদ্ধ প্রশাসনের অঙ্গীকার—যেখানে তিনি সাংবাদিকদের দেখেছেন সহযোগী হিসেবে, আবার প্রয়োজন হলে তীব্র সমালোচকের ভূমিকায়ও।
গত রোববার সন্ধ্যায় ছাতক উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় ইউএনও মিজ ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, “ছাতকের দৈনিক কমরত সকল সাংবাদিক হচ্ছে আমার বন্ধু।
প্রশাসনের ভালো কাজের প্রশংসা করবেন, আর কোথাও দুর্নীতি বা অনিয়ম দেখলে নির্ভয়ে তা প্রকাশ করবেন—এটাই আপনাদের অধিকার এবং কর্তব্য। আমি চাই না কোনো ব্যক্তি বিশেষ আমাকে খুশি করার চেষ্টা করুক। সত্য বলুন, সত্য লিখুন—তাতে প্রশাসনেরও শক্তি বাড়বে।”
তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা এবং গণমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়। তিনি বলেন, “সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে। সাংবাদিকরা যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তখন একটি উপজেলায়ও বড় পরিবর্তন আসে। উন্নয়নকে গতিশীল করতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে একসাথে কাজ করতেই হবে।”
আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেই পথে গণমাধ্যমই হলো সবচেয়ে বড় শক্তি। মাঠের তথ্য, মানুষের কণ্ঠ, ভোটের পরিবেশ—সবই আপনাদের সরল দৃষ্টিতে উঠে আসুক। এতে প্রশাসনও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”
কোনো গোষ্ঠী, দল বা ব্যক্তি বিশেষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি জানান, ছাতক উপজেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। জনগণের স্বার্থে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা তিনি সবসময় স্বাগত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন। ইউএনও বলেন, “সমালোচনা আমাকে থামায় না; বরং আরও ভালো কাজ করার শক্তি দেয়।
এসময় ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদার,সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি,আব্দুল আলিম,আতিকুর রহমান মাহমুদ,সাকির আমিন,তানবির আহমদ,প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মাধ্যমের সাংবাদিকরা ইউএনও’র এমন স্বচ্ছ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে সাধুবাদ জানান। তারা বলেন, প্রশাসন ও গণমাধ্যম যখন একই লক্ষ্য নিয়ে জনগণের পক্ষে কাজ করে, তখন সেবার মান যেমন বাড়ে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে শাসন ব্যবস্থাও আরও জবাবদিহিমূলক হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকরা জনস্বার্থ অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও নিরপেক্ষ সংবাদ উপস্থাপনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
