হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: পবিত্র কুরআন অবমাননার মামলার পর এবার গৃহবধূ ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হয়েছেন আলোচিত টিকটকার ইব্রাহিম মিয়া (৩০) ও তার স্ত্রী মোছা. মুক্তা আক্তার (২৫)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে টিকটক ভিডিও তৈরির সময় কুরআনের সুরা ফাতেহা অবমাননার অভিযোগে ইব্রাহিম–মুক্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং হাইকোর্ট তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আরও ভয়াবহ অভিযোগ সামনে আসে। চুনারুঘাট উপজেলার ইকরতলী গ্রামের গৃহবধূ ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নিহতের পিতা মো. নুরুল হকের দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে ফাহিমাকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল ছিল ফাহিমার স্বামী মো. সুজন মিয়ার বাড়ি।
এজাহারে বলা হয়, সুজন নিজ হাতে ফাহিমার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। এ সময় মুক্তা আক্তার ও ইব্রাহিম মিয়াসহ আরও কয়েকজন তাকে ধরে রাখে। পরে হত্যাকে আত্মহত্যা হিসেবে চালাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, টিকটক ভিডিও বানাতে বাধ্য করা এবং দ্বিতীয় বিয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ফাহিমার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। হত্যাকাণ্ডের সময় তার সাত বছর বয়সী ছেলে জিহাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।
এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০২, ২০১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মামলা গ্রহণ করেছেন আদালত। চুনারুঘাট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চুনারুঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “মামলা পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ওয়ারেন্ট থাকলে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
এই সংবাদটি মামলা ও এজাহারভিত্তিক। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাই আইনের চোখে নির্দোষ।
