নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ২৭ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শ্রীমঙ্গলে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ এবং শ্রম দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের সামনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দুলাল হাজরার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক উপদেষ্টা ও কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পরাগ বাড়ৈ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা, সহসভাপতি পংকজ এ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, কার্যকরী সভাপতি বৈশিষ্ট্য তাঁতীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ কর্মসূচিতে বালিশিরা ভ্যালির ছয়টি চা বাগানের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।
নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (বাচাশ্রই)-এর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চা শিল্পে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি মহল নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে শ্রমিক সমাজের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করছে। ফলে চা শিল্পের স্থিতিশীলতা ও শ্রমিক ঐক্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদান
সকালে শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালকের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নের মহাপরিচালকের বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা ও চা শিল্পে কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
নেতৃবৃন্দ জানান, সর্বশেষ ২০২১ সালে ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শ্রম সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কমিশনের নির্দেশনার কারণে তা স্থগিত হয়।
অভিযোগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে কিছু ব্যক্তি এডহক কমিটি গঠনের দাবি তুলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে।
এছাড়া গত ১৮ জানুয়ারি শ্রম দপ্তরের সামনে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ বৈধ সদস্য নন বলেও দাবি করা হয়।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ অবস্থায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশন
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি: নং বি-৭৭) ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করেছে সরকার।
বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মহব্বত হোসাইনকে প্রধান করে গঠিত এ কমিশনে অন্যান্য সদস্যরা হলেন— অবীর চন্দ্র বালা, মোহাম্মদ আব্দুস সাব্বির ভূঁইয়া, মনি শংকর বাউরি, দিপেন বুনার্জী, মঞ্জুস তাঁতি, মো. কাউসার আহমেদ, সন্তোষ লোহার ও মহেশ রায়।
শ্রম অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গঠনতন্ত্র, শ্রম আইন ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এ কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যয় ইউনিয়নের তহবিল থেকে বহন করা হবে।
বিতর্কের সূত্রপাত
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
