কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের লক্ষ্মীপুর নিবাসী প্রখ্যাত সুফি সাধক, ওলিয়ে কামিল, মরমী কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও গবেষক হযরত আল্লামা শাহ ইয়াছিন (রহ.)-এর ৮৭তম ইন্তেকালবার্ষিকী উপলক্ষে কমলগঞ্জে উরুসে আউলিয়া ও ঈসালে সাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১২ই মাঘ (২৬ জানুয়ারি, সোমবার) কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন রামপাশা (আংশিক) গ্রামে হযরত শাহ আজম (রহ.)-এর মাজার শরীফ ও দরগাহ প্রাঙ্গণে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
রাত ১০টায় মাওলানা কাজী মুহিউচ্ছুন্নাহ আজমীর সভাপতিত্বে এবং গয়গড় খোজার মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা সৈয়দ মাসুদ আলী সাহেবের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আনজুমানে আল ইসলাহ মৌলভীবাজার জেলার কার্যকরী কমিটির সদস্য ও আহমদনগর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট কাজী মাওলানা আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ওলি আউলিয়ারা আল্লাহর পথে কঠোর সাধনা ও মেহনতের মাধ্যমে তাঁর প্রিয় বান্দায় পরিণত হন। তাদের মাজারে জিয়ারতের উদ্দেশ্য ফয়েজ লাভ করা, ভণ্ডামি নয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মোস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, হযরত শাহ আজম (রহ.)-এর সঙ্গে তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং এ সম্পর্ক আজীবন থাকবে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন হযরত শাহ আজম (রহ.)-এর নাতি হযরত মাওলানা মুফতি শাহ মোহাম্মদ মোজাহিদ আলী আজমী। তিনি বলেন, ওলিদের দরবার হলো সহবত ও ফয়েজ হাসিলের স্থান। গান-বাজনা, বেহায়াপনা ও অনৈতিক কার্যকলাপ ইসলামের পরিপন্থী এবং এসব কর্মকাণ্ড ওলি-আউলিয়াদের সম্মান ক্ষুণ্ন করে।
তিনি আরও বলেন, কুরআন-হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনার মাধ্যমেই প্রকৃত ফয়েজ লাভ সম্ভব।
আলোচনায় বক্তারা হযরত আল্লামা শাহ ইয়াছিন (রহ.)-এর জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক, কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক। ইসলামের খেদমতে তিনি ভারত ও বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর রচিত “ইশকে খোদা, হুব্বে রাসুল (সা.)”সহ অসংখ্য ইসলামী সাহিত্যকর্ম আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।
মাহফিলে এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, ভক্ত ও আশেকানগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে কুরআন খতম, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল ও ওলিদের জীবনী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ পরিচালনা করেন হযরত মাওলানা সৈয়দ মাসুদ আলী সাহেব।
শেষে হযরত মাওলানা মুফতি শাহ মোহাম্মদ মোজাহিদ আলী আজমীর মুনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরে সুশৃঙ্খলভাবে তবারুক বিতরণ করা হয়।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
