কাওছার ইকবাল, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি রিসোর্টে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে রিসোর্টের নারী উদ্যোক্তা ও কর্মচারীরা রাস্তায় নিঃস্ব হয়েছেন। রিসোর্টের মালিকানা ও অর্থ নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় এক ব্যক্তি ও তার সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে রিসোর্টের নারী উদ্যোক্তা লাবনী ইয়াছমিন জানিয়েছেন, তিনি ও তার স্বামী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকায় রিসোর্ট ব্যবসা করার জন্য জমি ২০ বছরের লীজে নেন। লীজের টাকা প্রতি পাঁচ বছর পর পর পরিশোধের শর্তসহ একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়।
লাবনী বলেন, প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘অরণ্যবাস ইকো রিসোর্ট’ নামে রিসোর্ট তৈরি করা হয়। কিন্তু তৃতীয় কিস্তির ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করতে গেলে জমির মালিক ইউসুফ খাঁ টাকা নিতে অস্বীকার করে এবং রিসোর্ট খালি করার চাপ সৃষ্টি করে। ২৬ নভেম্বর ইউসুফ খাঁ ও তার সমর্থকরা রিসোর্টে গিয়ে হামলা, ভাংচুর ও মারধর করে লাবনী ও তার স্বামীকে বের করে দেন।
পরে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশের সহায়তায় রিসোর্ট ফিরিয়ে পান। তবে লাবনী অভিযোগ করেন, ২৪ জানুয়ারি স্বামী কামরুজামানকে থানায় ডেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হন।
লাবনী আরও জানান, ২৯ জানুয়ারি সকালে ইউসুফ খাঁ ও ২৫–৩০ জন সহযোগী ফের হামলা চালিয়ে রিসোর্টে ভাংচুর, প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি, শ্লীলতাহানি ও মারধর চালায়। রিসোর্ট থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং জরুরি কাগজপত্র লুট করা হয়। পরে তারা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়।
লাবনী অভিযোগ করেন, থানায় অভিযোগ রেকর্ড না করার পাশাপাশি স্বামীকে জেলে পাঠানোতে পুলিশি ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। রিসোর্টের প্রায় ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ হারিয়ে তারা তিনদিন ধরে রাস্তায় ঘুরছেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রিসোর্টের মালিকানা বিষয়ে মামলা আদালতে চলমান, তার সমাধান আদালতের মাধ্যমে হবে।
অপরদিকে, জমির মালিক ইউসুফ খাঁ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার কাছে প্রমাণপত্র আছে। আদালতে মামলা চলমান, আদালতেই এর সমাধান হবে।”
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
