আমার সিলেট ডেস্ক: চট্টগ্রামের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ঐক্যবদ্ধ সুন্নি জোট। জোটের প্রার্থীরা চট্টগ্রামের তিনটি আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে মূল লড়াইয়ে অংশ নিয়ে জামায়াতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসেন।
একটি আসনে জোটের অন্য শরিক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা প্রতীক) ভোটারদের মধ্যে ভালো সাড়া পেয়েছেন। চট্টগ্রামের বাইরে, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর-চুনারুঘাট আসনে আলোচিত ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ৭৮ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রথমে বিজয়ী হিসেবে তাঁকে প্রচার করা হলেও, নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে বিএনপির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সালকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ স উ ম আব্দুস সামাদ বলেন,
“চট্টগ্রামের সাতটি আসনে আমরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছি। ইসলামী শক্তি হিসেবে ভোটের মাঠে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পেরেছি। সুন্নিয়তকে বিজয়ী করতে যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ।”
নির্বাচনী ফলাফল সংক্ষেপে চট্টগ্রাম জেলা:
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী)
বিএনপি: সরওয়ার জামাল
১,২৫,৪৬০,
সুন্নি জোট: এসএম শাহাজান (মোমবাতি)
৫১,০৬২,
জামায়াত: অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান
৩৪,০৩৫,
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান)
বিএনপি: গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী
১১১২০১,
মোহাম্মদ ইলিয়াছ নুরী (মোমবাতি)
২৬৬৯৬,
জামায়াত: শাহজাহান মঞ্জু
২১০১৩,
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া)
বিএনপি: এনামুল হক এনাম
১৩৪০৬০,
ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু (মোমবাতি)
২৮৮০৬,
জামায়াত: ডা. ফরিদুল আলম
২০৯৪০,
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী)
বিএনপি: এরশাদ উল্লাহ
৭২২০৭,
সৈয়দ মো. হাসান (মোমবাতি)
১৯৫৮৫,
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া)
বিএনপি: হুমাম কাদের চৌধুরী
১০১৪৪৫,
অ্যাডভোকেট ইকবাল হাছান (মোমবাতি)
৩০২৩৯,
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী)
বিএনপি: মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন
১১৬৪৪০,
রফিকুল ইসলাম (চেয়ার)
১২২২৫,
প্রার্থী ও ভোটার প্রতিক্রিয়া
মোমবাতি প্রতীকের এসএম শাহাজান বলেন,
“ভোটের একদিন আগে থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হুমকি-ধমকি চালানো হয়েছে। ভোটের দিন বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আমাদের ১১ জন কর্মী আহত হয়েছে। সুন্নি জোট এবারের নির্বাচনে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।”
সুন্নি জোট চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে মহাসমাবেশ করে শক্তি প্রদর্শন করলেও, স্থানীয় প্রচারণার ঘাটতি ছিল বলে ভোটাররা মন্তব্য করেছেন।
জোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলো:
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি প্রতীক)
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার প্রতীক)
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা প্রতীক)
যুবসেনা ও ছাত্রসেনা নেতাকর্মীরা জোটের প্রার্থী ও প্রতীকের পক্ষে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।
আগামী দিনের নির্বাচনী প্রস্তুতির পরামর্শ:
যদি সুন্নি জোট ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনে আরও শক্তিশালী হতে চায়, তারা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারে:
ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধি:
ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোটের গুরুত্ব বোঝানো।
কালো টাকা, প্রভাবশালী লবিং ও হুমকি-ধমকি প্রতিরোধের বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা।
নির্বাচনী মাঠ পর্যবেক্ষণ:
ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা।
ভোটের দিন হুমকি, সহিংসতা বা অনিয়ম দ্রুত রিপোর্ট করা।
প্রার্থীদের মনিটরিং ও তথ্য প্রচার:
প্রার্থীদের কার্যক্রম, প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনী আচরণ পর্যবেক্ষণ করা।
ভোটারদের জন্য তথ্যভিত্তিক প্রচারণা চালানো।
সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি:
ইউনিয়ন ও উপজেলায় নির্বাচনী কমিটি ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গঠন করা।
যুব ও ছাত্র সংগঠন সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করানো।
আইনি ও প্রশাসনিক সমন্বয়:
অভিযোগ বা অনিয়মের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় রাখা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুন্নি পরিচয়ে একই আকিদার লোকদের ব্যাপারে অতিরঞ্জিত বা কারো সম্মানহানি কর লেখালেখি থেকে বিরক্ত থাকা প্রয়োজনে ফেক আইডিগুলোকে সততার সাথে শনাক্ত করা।
সংক্ষেপে:
সুন্নি জোট নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তবে ভোটার সচেতনতা, মাঠ পর্যবেক্ষণ এবং সংগঠন সম্প্রসারণে মনোযোগ এবং সমমনা অন্যান্য ছোট দলগুলোকে বা আঞ্চলিক দলগুলোকে একত্রিত করতে পারলেই ভবিষ্যতের নির্বাচনে আরও শক্তিশালী হতে পারবে।
