শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: চাঁদের হাসিতে শুরু হলো রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান (রমাদানুল মোবারক)। প্রথম রমদানুল মোবারকের রাতেই ইবাদতের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে শ্রীমঙ্গল জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ। এশার ফরজ নামাজের পূর্ব থেকেই এশার ফরজ ও তারাবির নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়ে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
এশার নামাজের পূর্ব থেকেই দলে দলে ধর্মপ্রাণ মানুষ মসজিদে আসতে থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মসজিদের ভেতর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই বারান্দা, সিঁড়ি ও দ্বিতীয় তলা এবং তৃতীয় তলা পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তারাবির নামাজ আদায় করেন। সবার চোখেমুখে ছিল প্রশান্তির ছাপ, হৃদয়ে ছিল আত্মশুদ্ধির দৃঢ় প্রত্যয়। উপস্থিতির মধ্যে তরুণ বয়সের মুসল্লিদের বেশ উৎসাহিত এবং উদ্দীপনায় লক্ষ্য করা যায়।
তারাবির দীর্ঘ কিয়ামে পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াতে চারপাশ নীরব হয়ে আসে। ইমামের কণ্ঠে আয়াতের সুরে অনেক মুসল্লির চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। দোয়ার সময় হাত তুলে কেউ নিজের জন্য, কেউ পরিবারের জন্য, আবার কেউ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন।
মসজিদ প্রাঙ্গণে ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ। স্বেচ্ছাসেবকরা মুসল্লিদের সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়াতে সহায়তা করেন। তরুণ-যুবক থেকে শুরু করে প্রবীণ মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
মুসল্লিরা বলেন, “রমজানের প্রথম তারাবি আমাদের কাছে এক বিশেষ অনুভূতির নাম। এই মাসে আমরা বেশি বেশি ইবাদত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই।”
রাসূলুল্লাহ (দ:) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে (তারাবি) দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”
— সহিহ বুখারি
রমজানের প্রথম রাতেই ইবাদত-বন্দেগিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পবিত্র এই মাসজুড়ে তারাবি, কোরআন তেলাওয়াত ও বিশেষ দোয়া এবং দান খয়রাত, ইফতার মাহফিল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
রমজানের প্রথম তারাবি যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল—ইবাদতেই প্রশান্তি, সংযমেই মুক্তি, আর রমজানই আত্মশুদ্ধির শ্রেষ্ঠ সুযোগ।
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
