পরে জানা গেল শিশুটিরই বাবা; স্বামী–স্ত্রীর বিরোধে উত্তেজিত জনতার হামলা পরে সমাধান!
নিজস্ব প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘ছিনতাইকারী’ সন্দেহে এক প্রবাসীসহ তার থাকা কয়েকজনকে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। পরে জানা যায়, মারধরের শিকার ব্যক্তি শিশুটিরই বাবা এবং স্বামী–স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধ থেকেই পুরো ঘটনার সূত্রপাত।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাতের ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি সাদা প্রাইভেটকারে করে এক ব্যক্তি একটি শিশুকে নিয়ে স্থানীয় একটি হোটেলে খাওয়াদাওয়া করেন। পরে শিশুটিকে নিয়ে গাড়িতে উঠলে শিশুটির মা চিৎকার করে তাকে ‘ছিনতাইকারী’ বলে অভিযোগ করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে গাড়িটি আটকে দেয়।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা যাচাই-বাছাই ছাড়াই ওই ব্যক্তিসহ তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে মারধর শুরু করে এবং প্রাইভেটকারটিও ভাঙচুর করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে।
পরে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মারধরের শিকার ব্যক্তি ওই শিশুটিরই বাবা। স্বামী–স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে স্ত্রী তাকে ‘ছিনতাইকারী’ বলে চিৎকার করেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে জনতা হামলায় জড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করেছে। শিশুটি বাবার সঙ্গে যেতে রাজি না হওয়ায় বর্তমানে মায়ের কাছেই রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
