এম এম সামছুল ইসলাম: সাধারণত এ সময় হাকালুকি হাওরজুড়ে থাকার কথা ধান কাটার উৎসব, কৃষকের মুখে থাকার কথা হাসি। সোনালি ধানের মৌ মৌ গন্ধে ভরে ওঠার কথা ছিল গ্রামবাংলার আঙিনা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আজ ভেসে গেছে পানির স্রোতে।
সিলেট বিভাগের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল—মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ—জুড়ে এখন চোখে পড়ে শুধু অথৈ পানি। যে ধান ঘরে তুলে সারা বছরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা ছিল, সেই ধানই আজ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে চারপাশ।
হাকালুকি হাওরপারের কৃষক খছরূ মিয়া (৫৪), আমজাদ হোসেন (৫৫), আলী হোসেনসহ অনেকে জানান,
“সারা বছরের হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বোরো ধান আবাদ করেছিলাম। এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি, ধার-দেনাও করেছি। কিন্তু অকাল বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবারকে কী খাওয়াবো, আর ঋণই বা কীভাবে শোধ করবো—এই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।”
তারা আরও বলেন, অনেক জায়গায় ধান কাটার সুযোগই পাওয়া যায়নি। আবার কোথাও আধাপাকা ধান কেটে নেওয়া হলেও পানিতে ভিজে যাওয়ায় তা থেকে চাল পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শত শত হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এতে শুধু কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ১৮৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছিল। ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জুড়ী নদী দিয়ে হাকালুকি হাওরে পানি প্রবেশ করায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৭৪ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।
