ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক–শান্তিগঞ্জ–জগন্নাথপুর আঞ্চলিক সড়কে সংঘটিত ভয়াবহ সড়ক ডাকাতির ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অভিযানে ডাকাত দলের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত টাকার একটি অংশ, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও মুখোশযুক্ত হুডি জ্যাকেট।
শুক্রবার সকালে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাতগাঁও ইউনিয়নের শক্তিয়ারগাঁও দারাখাই কুন্দানালা ব্রিজসংলগ্ন আঞ্চলিক সড়কে জগন্নাথপুরগামী সিলেট মেট্রো-ন-১১-১১৬০ নম্বরের একটি পিকআপের গতিরোধ করে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল।
এসময় ডাকাতরা পিকআপের কর্মচারী স্বপন দাস, চালক স্বদেব দাস ও যাত্রী প্রান্ত দাসকে মারধর করে। পরে স্বপন দাসের গলায় ঝোলানো ব্যাগ থেকে ২ লাখ ৬ হাজার টাকা লুট করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন ৭ মে জগন্নাথপুর উপজেলার ইকড়ছই গ্রামের শরিফ মিয়ার ছেলে মো. মতিউর রহমান ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ছাতক থানায় মামলা নং-১৩, তারিখ ০৮/০৫/২০২৬, দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় একটি ডাকাতি মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই শেখ মিরাজ আহম্মেদকে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাত শনাক্ত: তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ মিরাজ আহম্মেদ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাত দলের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে ছাতক থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জাউয়াবাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কবির, এসআই মিরাজ, এএসআই রৌশন, এএসআই সাইফুলসহ পুলিশের একাধিক টিম রাতভর অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে গ্রেফতার করা হয়—মো. আজির উদ্দিন (৩৩), পিতা: নিজাম উদ্দিন, গ্রাম: মজিদপুর, জগন্নাথপুর
মো. হোসাইন আহম্মদ (২২), পিতা: হাবির মিয়া, গ্রাম: ইশাকপুর, শান্তিগঞ্জ
উদ্ধার হলো অস্ত্র ও লুণ্ঠিত টাকা: পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইশাকপুর এলাকায় হোসাইন আহম্মদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি রামদা ও লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে ২৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া পলাতক আসামি লায়েক মিয়া (২৫)-এর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ২৩.৬ ইঞ্চি লম্বা একটি তলোয়ার এবং কালো-লাল রঙের মুখোশযুক্ত হুডি জ্যাকেট।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে—মুখোশযুক্ত হুডি জ্যাকেট, ২৩.৬ ইঞ্চি লম্বা তলোয়ার, ২৪ ইঞ্চি রামদা, নগদ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা,
এসব আলামতসহ আটক আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এলাকায় স্বস্তি ফিরছে– স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাতের সড়কে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। পুলিশের দ্রুত অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
পিকআপের কর্মচারী স্বপন দাস বলেন,“সেদিনের ভয়াবহ মুহূর্ত এখনো ভুলতে পারিনি। আমাদের মারধর করে সব টাকা নিয়ে যায়। পুলিশ দ্রুত ডাকাতদের ধরেছে, এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
অভিযান অব্যাহত-ছাতক থানা সূত্রে জানা গেছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য পালানোর পথ ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
ছাতক–দোয়ারাবাজার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মুরছালিন বলেন,
“ডাকাতির ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করে দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক সড়কে ছিনতাই ও ডাকাতি দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
