নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা: সাংবাদিকদের তীব্র আন্দোলন ও আল্টিমেটামের মুখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে পাবনা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার অ্যাডিশনাল ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে এই বদলি করা হয়। পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ ডিবির ওসির প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার নেপথ্য ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
সম্প্রতি নাফিসা নামের এক তরুণীকে ব্যবহার করে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ তোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ভিডিওটি পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ের ভেতরে ধারণ করা হয়েছিল।
পরে ভুক্তভোগী তরুণী নাফিসা নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে এবং থানায় দেওয়া লিখিত বক্তব্যে পুরো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেন। তিনি জানান, সুবর্ণা হালিম নামের এক নারী নেত্রী ও একটি কুচক্রী মহল তাকে জিম্মি করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছিল। পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ের ভেতরে অসাধু চক্রের সহায়তায় সাজানো বক্তব্যের ওই ভিডিও ধারণ করা হয়। জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তরুণী ইতোমধ্যে থানায় দেওয়া মিথ্যা অভিযোগটি লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
পাবনার মূলধারার সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, বিভিন্ন অবৈধ জমি দখল এবং ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় একটি কুচক্রী মহল ক্ষিপ্ত হয়ে এই ষড়যন্ত্র সাজায়। আর একটি সংবেদনশীল সরকারি দপ্তরে বসে এমন বানোয়াট ভিডিও তৈরি ও প্রচারের ক্ষেত্রে ডিবি ওসি রাশেদুল ইসলাম প্রত্যক্ষভাবে মদদ জুগিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন সাংবাদিকরা।
সাংবাদিক সমাজ ও নেতৃবৃন্দের কর্মসূচি
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শহরের প্রধান সড়কে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে ডিবি ওসি রাশেদুল ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য কুচক্রীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পাবনা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন সাংবাদিক নেতারা।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বশেষ বক্তব্য
- প্রত্যাহার হওয়া ডিবি ওসি রাশেদুল ইসলাম:
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, “ভুক্তভোগী পরিবার আতঙ্কিত হয়ে আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। তাদের উদ্ধার করে আমাদের হেফাজতে এনেছিলাম আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে কেউ হয়তো ভিডিও করেছে।” (ভিডিও তৈরির সাথে নিজের বা ডিবির সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা তিনি অস্বীকার করেন)। - পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ:
ডিবি ওসির প্রত্যাহারের সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, “পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই তদন্ত চলমান অবস্থায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তার বদলির আদেশ এসেছে। চিঠিটি আমরা হাতে পেয়েছি।” - পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার:
সাংবাদিক নেতা আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, “শুধু ডিবির ওসি রাশেদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করলেই হবে না; এই ভিডিও তৈরির সঙ্গে জড়িত এবং নেপথ্যে থাকা প্রত্যেক কুচক্রীকে চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ যেন কুচক্রী মহলের হাতিয়ার হয়ে সাংবাদিকদের ওপর এমন হয়রানিমূলক অপচেষ্টা চালানোর সাহস না পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।”
