খাবারের ব্যাপারে আমরা বেশ সচেতন। কোন খাবার সুস্বাদু, কোনটি বেমজা, কোনটি স্বাস্থ্যকর আর কোনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর—এসব নিয়ে আমাদের যথেষ্ট ভাবনা আছে। খাবার হালাল না হারাম, সেটিও অনেকের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটু বেশি তেল-মসলা খেলেই বদহজম হতে পারে—এই আশঙ্কায় আমরা সতর্ক হই; প্রয়োজনে ওষুধও খাই।
কিন্তু একটি প্রশ্ন কি কখনো নিজেদের করি—অন্যের হক গ্রাস করে যে সম্পদ আমরা নিজের পেটে দিই, তার পরিণতি কী?
শরীরের বদহজমের ভয় আমাদের আছে; কিন্তু অন্যের অধিকার আত্মসাৎ করে বিবেক ও আত্মার যে ক্ষয় হয়, সেই ভয় কি আমাদের আছে?
এখানেই আমাদের সামাজিক ও নৈতিক জীবনের এক ভয়াবহ বৈপরীত্য প্রকাশ পায়।
খাবারের পবিত্রতা বুঝি, সম্পদের পবিত্রতা বুঝি না কেন?
ইসলাম শুধু খাবারের হালাল-হারাম নির্ধারণ করেনি; উপার্জনের পথ, সম্পদের মালিকানা এবং অন্যের অধিকারের প্রতিও কঠোর সতর্কতা দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন—
«“তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।”
—সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৮»
এই নির্দেশ শুধু চুরি-ডাকাতির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। অন্যায়ভাবে কারও সম্পদ নেওয়া, প্রতারণা করে সম্পত্তি লিখে নেওয়া, দুর্বল উত্তরাধিকারীকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা, জবরদখল করা কিংবা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া—সবই এই নীতির আলোকে গুরুতর অন্যায়।
অর্থাৎ, হারাম শুধু খাবারের প্লেটে আসে না; হারাম সম্পদের পথ ধরেও মানুষের ঘরে প্রবেশ করে।
কেউ যদি হারাম খাবার এড়িয়ে চলে, কিন্তু হারাম উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে বৈধ খাবার কেনে, তাহলে তার সমস্যাটি শুধু খাবারের নয়—উপার্জনের উৎসেরও।
মেয়ের উত্তরাধিকার ‘দয়া’ নয়, অধিকার
আমাদের সমাজে অন্যের হক আত্মসাতের একটি পরিচিত ক্ষেত্র হলো উত্তরাধিকার।
অনেক পরিবারে এখনো এমন মানসিকতা দেখা যায়—বোন তো বিয়ে হয়ে স্বামীর বাড়ি চলে গেছে; তাকে আবার বাবার সম্পত্তির অংশ দিতে হবে কেন? কেউ কেউ বলেন, “মেয়েরা তো আর বাবার বাড়ির জমি ভোগ করবে না।” আবার কোথাও বোনকে এমন সম্পত্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা বাস্তবে ব্যবহার করা কঠিন কিংবা ন্যায্য বাজারমূল্যের তুলনায় অপ্রতুল।
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তরাধিকার কোনো পারিবারিক অনুগ্রহ নয়। এটি অধিকার।
আল্লাহ বলেন—
«“পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে যায়, তাতে পুরুষদের জন্য অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে যায়, তাতে নারীদের জন্যও অংশ রয়েছে—তা কম হোক বা বেশি, নির্ধারিত অংশ।”
—সূরা আন-নিসা, ৪:৭»
অর্থাৎ, কোনো নারীকে তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই।
বিয়ের পর একজন নারী তার স্বামীর বাড়িতে থাকেন—এটি তার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে তার বৈধ অধিকার বাতিল করে না। বরং ইসলাম যে উত্তরাধিকার নির্ধারণ করেছে, তা আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শরিয়তের বিধানের ভিত্তিতে; সামাজিক রীতিনীতি দিয়ে তা বাতিল করার সুযোগ নেই।
তাই কোনো ভাই যদি বোনকে বলে—“তুমি তো স্বামীর বাড়িতে থাকো, তোমার সম্পত্তি তোমার কী দরকার?”—তাহলে প্রশ্ন হওয়া উচিত: এই যুক্তি কি আল্লাহর নির্ধারিত অধিকারকে বাতিল করে দিতে পারে?
অবশ্যই পারে না।
নামমাত্র অংশ দিয়ে অধিকার বঞ্চিত করাও অন্যায়
অন্যায় সবসময় সরাসরি “তোমাকে কিছু দেব না” বলেই হয় না। কখনো কখনো আরও সূক্ষ্ম কৌশলে অধিকার হরণ করা হয়।
কাউকে এমন জমি দেওয়া হলো, যা তার বসবাস বা চাষাবাদের উপযোগী নয়। এমন জায়গা দেওয়া হলো, যেখানে যাওয়ার রাস্তা নেই। অথবা সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য গোপন রেখে তাকে অল্প অর্থে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা হলো।
এসব ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনা একইভাবে বিচার করা যাবে না—কারণ সম্পত্তির অবস্থান, দলিল, বাজারমূল্য ও পারিবারিক বন্দোবস্ত ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো উত্তরাধিকারীকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্য থাকলে সেটি নিঃসন্দেহে গুরুতর নৈতিক অন্যায়।
অধিকারকে কাগজে নামমাত্র রেখে বাস্তবে অকার্যকর করে দেওয়া ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য পূরণ করে না।
এতিমের সম্পত্তি—দুর্বল বলে ভোগ করার সুযোগ নয়
এতিমের সম্পত্তির ব্যাপারে কোরআনের সতর্কতা আরও কঠোর।
আল্লাহ বলেন—
«“নিশ্চয়ই যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ ভক্ষণ করে, তারা তো নিজেদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করছে; অচিরেই তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।”
—সূরা আন-নিসা, ৪:১০»
এখানে কোরআনের ভাষা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এতিম সাধারণত নিজের অধিকার রক্ষার মতো সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তি রাখে না। তাই তার সম্পদ আত্মসাৎ করা শুধু সম্পদ নেওয়া নয়; এটি একজন দুর্বল মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে তার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া।
যে সম্পদ একজন অভিভাবকের কাছে আমানত, সেটিকে নিজের সম্পদ মনে করা শুধু বিশ্বাসভঙ্গ নয়—এটি আমানতেরও খেয়ানত।
বিধবা ও সরল মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করা
একজন বিধবা নারী, বৃদ্ধ, অশিক্ষিত মানুষ কিংবা আইন-কানুন কম বোঝেন এমন কোনো ব্যক্তি যখন সম্পত্তি নিয়ে সমস্যায় পড়েন, তখন তার দুর্বলতাকে সুযোগ হিসেবে নেওয়া মানবিকতার চরম অবক্ষয়।
কেউ যদি বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়, কেউ যদি ভুল বুঝিয়ে জমি লিখে নেয়, কেউ যদি ভয় দেখিয়ে অধিকার ছাড়তে বাধ্য করে—তাহলে কাগজে-কলমে কোনো লেনদেনের চিহ্ন থাকলেই সেটি ন্যায়সংগত হয়ে যায় না।
ন্যায়বিচারের প্রশ্ন শুধু দলিলে স্বাক্ষর হয়েছে কি না—এখানেই শেষ নয়; স্বাক্ষরটি স্বাধীনভাবে, প্রতারণামুক্তভাবে এবং প্রকৃত বিষয় বুঝে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পত্তি দখল মানে শুধু জমি দখল নয়
অন্যের সম্পত্তি জবরদখলের ঘটনাও আমাদের সমাজে নতুন নয়। রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব, অর্থনৈতিক শক্তি, ভয়ভীতি, প্রতারণা কিংবা সংঘবদ্ধ চাপ—বিভিন্ন উপায়ে দুর্বল মানুষের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ শোনা যায়।
যার হয়তো জীবনের একমাত্র সম্বল কয়েক শতক জমি, সেই জমি হারানো তার কাছে শুধু একটি সম্পত্তি হারানো নয়। সেটি হতে পারে তার সন্তানের ভবিষ্যৎ, বৃদ্ধ বয়সের আশ্রয়, চিকিৎসার অর্থ কিংবা পরিবারের শেষ নিরাপত্তা।
তাই অন্যের সম্পত্তি দখলকে শুধু “জমি নিয়ে বিরোধ” হিসেবে দেখলে বিষয়টির নৈতিক গভীরতা বোঝা যায় না।
কারও সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া মানে অনেক সময় তার জীবনের একটি অংশ কেড়ে নেওয়া।
জুলুমের পরিণতি শুধু আদালতে নয়, আখিরাতেও
রাসুলুল্লাহ ﷺ জুলুম সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—
«“জুলুম থেকে বেঁচে থাকো। কেননা জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকারসমূহে পরিণত হবে।”»
আর সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সামান্য পরিমাণ জমিও দখল করে, তার জন্য কিয়ামতের দিন অত্যন্ত কঠিন শাস্তির সতর্কতা রয়েছে।
এখানে আমাদের থামা দরকার।
আমরা অনেক সময় ভাবি—“কাগজ তো আমার নামে”, “জমি তো আমি দখলে রেখেছি”, “কেউ তো কিছু করতে পারছে না।”
কিন্তু দুনিয়ার ক্ষমতা সবসময় চূড়ান্ত ক্ষমতা নয়।
আদালতের নথিতে কোনো সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে; কিন্তু আল্লাহর বিচারে কার হক ছিল—সেটি গোপন থাকবে না।
হক নষ্ট করে ইবাদত দিয়ে সব ঢেকে দেওয়া যায় না
আমাদের সমাজে কখনো এমন মানুষও দেখা যায়, যারা নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন, দান-সদকা করেন, ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নেন—কিন্তু একই সঙ্গে কারও পাওনা আটকে রাখেন, উত্তরাধিকার বঞ্চিত করেন বা অন্যের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
এখানে একটি মৌলিক বিষয় মনে রাখা দরকার—ইবাদত মানুষকে অন্যায় থেকে মুক্ত করার কথা; অন্যায়ের সঙ্গে ইবাদতের সহাবস্থানকে স্বাভাবিক করার কথা নয়।
রাসুলুল্লাহ ﷺ “মুফলিস” বা প্রকৃত দেউলিয়া ব্যক্তির যে চিত্র দিয়েছেন, তা এ প্রসঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, এমন ব্যক্তি কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে আসবে; কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও ওপর অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ ভক্ষণ করেছে, কারও ওপর জুলুম করেছে। তখন তার নেকি মজলুমদের মধ্যে দিয়ে দেওয়া হবে; নেকি শেষ হয়ে গেলে তাদের গুনাহ তার ওপর চাপানো হবে।
অর্থাৎ, মানুষের হক নষ্ট করা এমন ঋণ, যার হিসাব আখিরাতেও সামনে আসবে।
বান্দার হক ফেরানোর প্রশ্নটি তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
অন্যের হক নষ্ট করে শুধু “আল্লাহ আমাকে মাফ করুন”—বললেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না।
কারও সম্পত্তি অন্যায়ভাবে নেওয়া হলে তা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কারও পাওনা আটকে রাখলে পাওনা পরিশোধ করতে হবে। উত্তরাধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করলে তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। সম্ভব হলে হকদারের ক্ষমা চাইতে হবে।
কারণ আল্লাহর কাছে তওবা এবং মানুষের অধিকার পুনঃস্থাপন—দুটির প্রশ্ন এক নয়।
নিজেকে ধার্মিক প্রমাণ করার চেয়ে অন্যের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া অনেক বেশি কঠিন; আর সম্ভবত সেখানেই আত্মশুদ্ধির প্রকৃত পরীক্ষা।
বদহজমের ওষুধ আছে, অন্যের হক আত্মসাতের ওষুধ কী?
খাবার খেয়ে বদহজম হলে ওষুধ পাওয়া যায়। চিকিৎসক পাওয়া যায়। কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যে শারীরিক অস্বস্তিও কেটে যেতে পারে।
কিন্তু অন্যের হক আত্মসাৎ করে যে নৈতিক ঋণ তৈরি হয়, তার চিকিৎসা কী?
শুধু দান-সদকা?
শুধু নামাজ?
শুধু মুখে তওবা?
নাকি যার হক নেওয়া হয়েছে, তার হক ফিরিয়ে দেওয়া?
এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের নিজেদের কাছেই খুঁজতে হবে।
কারণ একজন মানুষ সারা জীবন হারাম খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখলেন, কিন্তু অন্যের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে ভোগ করলেন—তাহলে তিনি হয়তো খাবারের হারাম বুঝেছেন, কিন্তু অধিকার হরণের হারামটি বুঝতে পারেননি।
সম্পদের পবিত্রতা ছাড়া খাবারের পবিত্রতা অসম্পূর্ণ
আমরা খাবারের প্লেটে হালাল-হারাম খুঁজি—এটি অবশ্যই ভালো।
কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের দেখতে হবে—এই খাবারের দাম কোথা থেকে এসেছে?
যে অর্থ দিয়ে খাবার কেনা হয়েছে, সেটি কি ঘুষের? প্রতারণার? আত্মসাতের? জবরদখলের? উত্তরাধিকার বঞ্চনার? অন্যের পাওনা আটকে রাখার? নাকি ন্যায্য পরিশ্রমের?
কারণ শুধু খাবারের বস্তু হালাল হলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; উপার্জনের পথও পবিত্র হতে হবে।
একজন মানুষ যদি হারাম খাবার মুখে তুলে ভয় পায়, কিন্তু অন্যের হক আত্মসাৎ করে সেই অর্থে পরিবারের জন্য খাবার কেনার সময় ভয় না পায়—তাহলে তার ধর্মীয় সচেতনতার কোথাও একটি বড় অসম্পূর্ণতা থেকে যাচ্ছে।
আমাদের ভয়টা কোথায়?
আমরা পেটের অসুখকে ভয় করি, কিন্তু আত্মার অসুখকে কতটা ভয় করি?
আমরা খাবারের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ দেখি, কিন্তু নিজের সম্পদের উৎসের হিসাব কতজন দেখি?
আমরা খাবারে ভেজাল আছে কি না দেখি, কিন্তু আমাদের উপার্জনে অন্যের অধিকার মিশে আছে কি না—সেটি কি পরীক্ষা করি?
এই প্রশ্নগুলো অস্বস্তিকর। কিন্তু আত্মশুদ্ধির জন্য অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়াই প্রয়োজন।
শেষ কথা
আমরা শরীরের পেটের দিকে যতটা তাকাই, বিবেকের পেটের দিকে কি ততটা তাকাই?
খাবারের সামান্য তেল-মসলা আমাদের বদহজম করাতে পারে—এ কথা আমরা জানি। কিন্তু অন্যের হক, অন্যের অশ্রু, অন্যের অসহায়ত্বের ওপর দাঁড়ানো সম্পদ যে মানুষের নৈতিক জীবনকে অসুস্থ করে দিতে পারে, সেই সত্যটি আমরা কতটা মনে রাখি?
খাবারের হালাল-হারাম নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। কিন্তু তার সঙ্গে আরও জরুরি হলো—সম্পদের হালাল-হারাম, অধিকার ও অন্যায়ের সীমারেখা বোঝা।
বোনের সম্পত্তি বঞ্চিত করে, এতিমের সম্পদ গ্রাস করে, বিধবার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে, সরল মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি দখল করে কেউ সত্যিকার অর্থে সফল হতে পারে না।
কারণ দুনিয়ার কাগজে মালিকানা বদলে যেতে পারে; ক্ষমতার জোরে দুর্বল মানুষকে চুপ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে; মামলা বছরের পর বছর চলতে পারে। কিন্তু অন্যায়ের হিসাব মুছে যায় না।
তাই আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত শুধু—
“আমি কী খাচ্ছি?”
তার পাশাপাশি আরও একটি প্রশ্ন করতে হবে—
“আমি যে সম্পদ দিয়ে খাচ্ছি, সেটি কি সত্যিই আমার?”
আরও একটি—
“আমার ভোগের কারণে কি অন্য কোনো মানুষ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে?”
এই প্রশ্নের সৎ উত্তরই হতে পারে আত্মশুদ্ধির শুরু।
শরীরের বদহজমের ওষুধ ফার্মেসিতে পাওয়া যায়; কিন্তু অন্যের হক গ্রাসের বদহজমের ওষুধ হলো—অন্যায় ছেড়ে দেওয়া, হক ফিরিয়ে দেওয়া, ক্ষমা চাওয়া এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করা।
খাবারের পবিত্রতা যেমন জরুরি, সম্পদের পবিত্রতাও তেমনি জরুরি।
কারণ শেষ বিচারে প্রশ্ন শুধু হবে না—“তুমি কী খেয়েছিলে?”
প্রশ্ন হতে পারে—
“তুমি যা খেয়েছিলে, তা কি তোমার হক ছিল?”
মুহাম্মদ আনিছুল ইসলাম আশরাফী
সাংবাদিক ও লেখক
