কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক মোহাম্মদ তারা মিয়ার (২৯) মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৫ টা ৫০ মিনিটের দিকে কুলাউড়ার চাতলাপুর এবং ভারতের কৈলা শহর নিকটবর্তী শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের পুলিশ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করে।
এর আগে সীমান্ত রেখায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে এক ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের প্রতিনিধি দল এবং বিএসএফের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনা শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতীয় পুলিশ নিহত তারা মিয়ার মরদেহ কুলাউড়া থানা-পুলিশের নিকট তুলে দেয়। এ সময় নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সীমান্তে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে কুলাউড়ার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে তারা মিয়া গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতে মারা যান। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে আজ তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
এদিকে নিহত তারা মিয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে নিহত তারা মিয়াকে স্থানীয় কয়েকজন চোরাকারবারী টাকার লোভ দেখিয়ে ভারতে পাঠিয়েছে। অপরদিকে ভারতীয় বিএসএফ এর সূত্রে ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তারা মিয়া আরো ৪-৫ জনসহ দেশীয় অস্ত্র দা ও লাঠি নিয়ে প্রবেশ করলে তাদেরকে বারবার দূর থেকে সতর্ক করা হয়, ফলে সীমান্তে গুলির মত এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, আমরা ভারতীয় পুলিশের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মরদেহ গ্রহণ করেছি, হস্তান্তরিত লাশটির প্রয়োজনীয় সুরতহাল ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের নিকট স্বসম্মানে দাফনের জন্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সীমান্ত হত্যার বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
