সালেহ আহমদ (স’লিপক): মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র রোধে গোলটেবিল বৈঠকে জাতীয় ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, চিহ্নিত দুর্বলতা কাটিয়ে স্বকীয়তা রক্ষায় মাদরাসা শিক্ষায় আধুনিকায়ন ও সংস্কার জরুরি।
সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে তারা বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারি সব ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বৈষম্য দূর করে যোগ্যতা অনুযায়ী পদায়ন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে আলেমদের নিয়োগ এবং দেশের সর্বস্তরের শিক্ষায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে “বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে করণীয়” শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ওলামা পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহম্মদ খন্দকারের পরিচালনায় গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন— শায়খুল হাদিস শেখ আজিম উদ্দিন, ড. মাওলানা ঈশা শাহেদী, মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান এমপি, এহতেশামুল হক নোমানী, ড. মুহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, মুহাদ্দিস শেখ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, আবু আম্মার, মাওলানা আরিফ হক্কানী, অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, শিক্ষাবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহিয়া, মাওলানা রুহুল আমিন সাদী, সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি ইলিয়াস, উপাধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বির আহমেদ, মাওলানা জাকির হোসেন কাসিমি, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সামাদ, অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, মুফতি আব্দুল হক আমিন, খতিব মাওলানা নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি রায়হান আলী, প্রিন্সিপাল মাওলানা মোস্তফা কামাল, মুহতামিম মাওলানা নুরুল হক, মুহতামিম মাওলানা নুরুল আমিন এবং শিক্ষাবিদ ড. মাহমুদুল হাসান কিবরিয়া প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মনন গঠনে মাদরাসা শিক্ষার ঐতিহাসিক ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশদের হাতে স্বাধীনতা হারানোর পূর্বে এদেশের শিক্ষা, বিচার ও আইন বিভাগ সবই ছিল আলেম সমাজের হাতে। অথচ আজ মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে চরম মিথ্যাচার ও সুদূরপ্রসারী অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মাদরাসা কোনো উগ্রবাদ বা সন্ত্রাস তৈরির জায়গা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় কোনো অনুদান ছাড়া সম্পূর্ণ জনগণের সহায়তায় প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ শিক্ষার্থীকে আদর্শ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে এগুলো। কোনো ব্যক্তিবিশেষের নৈতিক বিচ্যুতি বা প্রশাসনিক ত্রুটিকে কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ও লাখ লাখ আলেম-শিক্ষার্থীকে ঢালাওভাবে দায়ী করার চক্রান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, “মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে চলমান ইসলামবিদ্বেষী শক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের ঊর্ধ্বে উঠে আত্মসমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এর অংশ হিসেবে আরবি ভাষার প্রায়োগিক চর্চা, বাংলা ও ইংরেজির মানোন্নয়ন এবং আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো মাদরাসায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত তদন্তে পর্যবেক্ষণ সেল ও বিশেষ হটলাইন চালু এবং অপপ্রচার রোধে কওমি বোর্ডের অধীনে কার্যকর ‘ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট’ ও ‘লিগ্যাল প্যানেল’ গঠন করা সময়ের অনিবার্য দাবি।”
Subscribe to Updates
Get the latest creative news from FooBar about art, design and business.
