সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা সালিশে নিষ্পত্তি, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন অভিযুক্তরা
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনির ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আয়োজিত শালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। বৈঠকে হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে অভিযুক্তরা সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চাঁদাবাজির অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছে শালিশ বৈঠক।
গত রোববার বিকেলে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বুড়াইরগাঁও ভূমি অফিসের সামনে এ শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, মখলিছুর রহমান, উপজেলা বিএনপি নেতা আশরাফুর রহমান এনাম, আমিন উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিম আলী রাসেল, বিএনপি নেতা এমাদ উদ্দিন এমাদ, যুবদল নেতা আব্দুস সাত্তার ও মনির উদ্দিন, কৃষকদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন, ব্যবসায়ী শিমুল আহমদ আবু, আবুল কালাম, ইউপি সদস্য সাদ উদ্দিন, সাজল মেম্বার, সোনাফর আলী, নুর আলী, সারব আলী, আব্দুস ছোবহান, লিলু মিয়া, সাইফ উদ্দিন, নাসির উদ্দিন ও আলীম উদ্দিনসহ অনেকে।
ঘটনার সূত্রপাত ও ব্যাকগ্রাউন্ড:
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ জুলাই উপজেলার আলমপুর এলাকার ২০০ কেভিএ ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যায়। এতে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ছাতক পিডিবি অফিস থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা ও নতুন মিটার স্থাপনকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে।
সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিনামূল্যে বা নির্ধারিত ফি-তে সেবা পাওয়ার বিষয়ে গ্রামবাসীকে সচেতন করার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ গোবিন্দগঞ্জ কলেজসংলগ্ন একটি দোকানে সাংবাদিক রনির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলা থেকে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতা আব্দুস সাত্তার, ব্যবসায়ী রাকিব আলী, নগর করিম, আব্দুর রহমান, হারিছ আলী, মনির উদ্দিন, দুধু মিয়া ও আক্তার হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। তাদের কৈতক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২৮ জুলাই রাতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এলাকায় নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
অপপ্রচার ও শালিশের সিদ্ধান্ত:
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক রনির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে পোস্ট দেওয়া হয়। শালিশ বৈঠকে যাচাই-বাছাই শেষে উপস্থিত সবাই একমত হন যে, সাংবাদিক রনির বিরুদ্ধে আনীত চাঁদাবাজির অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। বিনা প্রমাণের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে হেয় করার তীব্র নিন্দা জানান বক্তারা।
পরে অভিযুক্তরা তাদের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনির কাছে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়।
সাংবাদিক রনির প্রতিক্রিয়া:
ঘটনার নিষ্পত্তিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনি বলেন, “সাহসী সাংবাদিকতাকে হামলা-মামলা বা অপপ্রচার দিয়ে থামিয়ে রাখা যায় না। সত্য কখনো চাপা পড়ে থাকে না; সত্যের জয় অনিবার্য।” তিনি যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন।
শালিশে আসা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ভবিষ্যতে সরকারি সেবা সম্পর্কিত জটিলতা নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে উন্মুক্ত বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। আপডেট
