শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়ন: অন্যায়ের চেয়েও ভয়াবহ কর্তৃপক্ষের নীরবতা কি বার্তা দিচ্ছে সমাজে?
জান্নাত আর জাহান্নামের টিকিট বিক্রির স্বঘোষিত ঠিকাদারদের দেশে আপনাকে স্বাগতম! এখানে কার ঈমান কতটুকু খাঁটি, কে মৃত্যুর পর সোজা জাহান্নামে যাবে আর কার কপালে জান্নাত নিশ্চিত—তা নির্ধারণে ওয়াজ মাহফিলের মাইকগুলো ২৪ ঘণ্টা গর্জে ওঠে। কথায় কথায় ফতোয়ার চাবুক মেরে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা, সমাজকে বিভক্ত করা আর হিংসার ফেতনা ছড়ানো যাদের নিত্যদিনের অভ্যাস, সম্প্রতি বিভিন্ন অঞ্চলে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন নিয়ে তাদের শির্ক ও বিদআতের স্বেচ্ছাচারী ব্যাখ্যা নেটিজেনদের মাঝে এক চরম বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে কোথায় লাইক বা কমেন্ট করবে—তা নিয়েও সাধারণ মানুষকে তটস্থ থাকতে দেখা গেছে। কারণ এদের পেছনে ছিল বিশাল অনলাইন কর্মী ও সমর্থকগোষ্ঠী।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—মানুষের ঈমান, আকিদা, আমল ও লাইক-কমেন্ট পর্যন্ত যাদের এত গভীর নজরদারি, একটি নিষ্পাপ শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের সেই নৈতিক দায়িত্ববোধ কোথায়? তারা কি এই বিষয়টিকেও একই গুরুত্বে দেখেন না?
অথচ আজ সেই বিশাল সংগঠন আর লাখো সমর্থকদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় গেল তাদের সেই হুঙ্কার?
কেন এই নীরবতা? এটি কি কেবল ঘটনাচক্রে তৈরি হওয়া নীরবতা, নাকি সচেতনভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ রয়েছে? নাকি অপরাধীদেরকে আমরা কোন দলের বা গুষ্টির হিসেবে ধরে নিয়েছি? অথচ অপরাধীদের কোন দল হয় না, কোন ধর্ম হয় না, কোন দেশ হয় না, কোন গুষ্টি হয় না, তবে হয় তাদের একটি নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে খুব সহজেই অন্যায় করে পার পাওয়া যায়। আর আমরা মনে হয় অবচেতন মনে সেই সুযোগটিই দিয়ে যাচ্ছি তাদেরকে, তাই নয় কি?
সাভারের একটি কওমি মাদ্রাসায় মাত্র সাত বছরের এক অবোধ শিশুর রক্তভেজা আর্তনাদ যখন মানবতাকে নাড়া দিচ্ছে, তখন এই ফতোয়াবাজদের মুখে কুলুপ আঁটা। টানা ছয় মাস ধরে শিক্ষক ও ছাত্রদের মাধ্যমে একটা নিষ্পাপ শিশু জঘন্য যৌন নিপীড়নের শিকার হলো, অথচ ধর্মীয় কোনো মঞ্চে, জুমার খুতবায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিরুদ্ধে জোরালো কোনো প্রতিবাদ বা ‘হারাম’ শব্দটুকুও উচ্চারিত হলো না!
কেন? এমন জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রেও কি ‘হারাম’ শব্দটি উচ্চারণ করতে এত দ্বিধা? অপরাধটি যদি সত্যিই তাদের বিবেককে নাড়া দেয়, তাহলে প্রতিবাদের সেই আওয়াজ কোথায়? আর যদি অভিযোগের সাক্ষ্য দুর্বল হয়, তাহলে অন্তত নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবিতে সোচ্চার হওয়া কি সম্ভব নয়?
সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো—তথ্য অনুসন্ধানে এবং সত্য উন্মোচনে যখন দেশের খ্যাতনামা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা মাদ্রাসায় সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে যান, তখন বিচার চাওয়ার বদলে একশ্রেণির ছাত্র ও সংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে অপদস্ত ও আটক করার চেষ্টা করে। সত্য ঢাকতে এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা দিতে তাঁরা স্লোগান ও মারমুখী পরিবেশ তৈরি করে ভীতি ছড়িয়ে দেয়। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া কি প্রমাণ করে না যে তাঁরা এই স্পর্শকাতর ও জঘন্য অপরাধের কোনো বিচার চান না? অপরাধীকে আড়াল করা এবং গণমাধ্যমকে ভয় দেখানোর এই অপচেষ্টার পেছনে আসল রহস্য কী? ব্যক্তির চরিত্রহীনতার দায় কেন একটি প্রতিষ্ঠান বা একটি ধর্ম বহন করবে?
নাকি ঘটনাটি নিয়ে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়েই গণমাধ্যমকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল? সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার প্রয়োজনই বা কেন হলো? তদন্ত ও সত্য উদঘাটনের স্বার্থে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে আপত্তি কোথায়?
আরও একটি হৃদয়বিদারক ও গভীর সামাজিক অনুভূতির জায়গা হলো—ঐতিহাসিকভাবেই মুসলিম সমাজে ‘মুহাম্মদ’ নামধারী শিশু বা ব্যক্তির প্রতি এক ধরনের সহজাত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার রীতি বিদ্যমান। নামটির প্রতি সম্মান জানিয়ে ইতিহাসে অনেক অপরাধীকে ক্ষমা করে দেওয়া বা বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার অগণিত নজির রয়েছে। অথচ সাভারের ঘটনাটিতে যে নিষ্পাপ শিশুটি দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এমন নৃশংসতার শিকার হয়ে রক্তক্ষরণে কাতরাচ্ছিল, সে-ও কিন্তু ইসলামের সবচেয়ে প্রিয় এই নামটিরই বাহক। প্রকৃত ইসলামিক মূল্যবোধসম্পন্ন কোনো মানুষ বা শিক্ষক কীভাবে একজন ‘মুহাম্মদ’ নামধারী অবোধ শিশুর ওপর এমন পশুবৃত্তিক নির্যাতন চালানোর সাহস পায়? তাঁরা কি একবারও ভাবল না যে তাঁরা কার সাথে এবং কী ধরনের অপরাধ করছে? এটি কি প্রমাণ করে না যে ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে তারা কোনো ভিন্ন এজেন্ডা বা ইসলামবিরোধী চক্রান্তের পথ ধরে হাঁটছে?
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—একজন শিশুর পরিচয়, তার ধর্মীয় পরিবেশ কিংবা তার নাম—কোনোটিই কি তাকে নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে পারল না? ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি যদি এমন অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে সেই শিক্ষাব্যবস্থা ও তদারকির জবাবদিহিতা কোথায়? আর অভিযোগ সত্য হলে, ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে অপরাধীকে রক্ষা করার কোনো সুযোগ কি থাকা উচিত?
যে মুখে অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ফতোয়ার খড়্গ নেমে আসে, নিজেদের আঙিনায় সংঘটিত জঘন্যতম অপরাধের বিরুদ্ধে সেই মুখ থেকে একটি শব্দও বের হয় না। নীরবতা মানে কি তবে পরোক্ষ সম্মতি? ওয়াজ মাহফিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নীতি-নৈতিকতার বক্তব্য দেওয়া এই ব্যক্তিরা কি তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের এসব অপকর্ম আড়াল করতে চান?
নাকি আমরা ধরে নেব—ঘটনা সত্য সাক্ষী দুর্বল! সাক্ষী দুর্বল বলেই তারা নীরব? কিন্তু সাক্ষী দুর্বল হলে কি ন্যায়বিচারের দাবি আরও জোরালো হওয়া উচিত নয়?
আমার সাংবাদিকতা ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা থেকে আরও একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে আসে। এ ধরনের ধর্মীয় বা আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের কতটুকু শেষ পর্যন্ত মামলা, তদন্ত কিংবা আদালত পর্যন্ত পৌঁছায়—তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান আমাদের হাতে নেই। তবে আমার পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন সময়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনে হয়েছে, প্রকাশ্যে আসা ঘটনাগুলো মোট ঘটনার খুবই সামান্য অংশ হতে পারে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক-দুই শতাংশের মতো ঘটনা সামনে এলেও বিপুলসংখ্যক ঘটনা ভয়, হুমকি, সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, পারিবারিক সম্মানহানি এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে চাপা পড়ে যেতে পারে। এটি কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নয়; একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও তথ্যভিত্তিক ধারণা মাত্র।
কারণ বাস্তবতা হলো—একটি শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর পরিবার অনেক সময় প্রশ্নের মুখোমুখি হয়, ‘কোথায় পড়ছিল?’, ‘কেন সেখানে পাঠানো হয়েছিল?’, ‘বিষয়টি প্রকাশ পেলে ভবিষ্যতে শিশুটির কী হবে?’ আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে অনেকে মনে করেন, এতে পুরো প্রতিষ্ঠান বা ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার বদনাম হবে। ফলে অপরাধের বিচার চাওয়ার পরিবর্তে অনেক সময় বিষয়টি গোপন রাখাকেই নিরাপদ মনে করা হয়।
আরও ভয়াবহ একটি দিক রয়েছে। কোনো শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর তার আচরণ বদলে যেতে পারে—সে চুপচাপ হয়ে যেতে পারে, অন্যমনস্ক থাকতে পারে, পড়াশোনায় অমনোযোগী হতে পারে, ভয় পেতে পারে কিংবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। কখনো কখনো প্রতিষ্ঠান থেকে পলায়ন করতে পারে কিন্তু এসব পরিবর্তনকে সবসময় নির্যাতনের সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখা হয় না।
কখনো কখনো শিশুর এমন আচরণকে ‘জিনে ধরেছে’ বা ‘ভূতে ধরেছে’ বলে ব্যাখ্যা করার প্রবণতাও দেখা যায়। এমনকি কোনো শিশু নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা বলতে চাইলে, তার বক্তব্যকে ‘জিনে ধরেছে, তাই উল্টাপাল্টা বলছে’—এ ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও কি আমাদের সমাজে একেবারে অচেনা?
তাহলে প্রশ্ন—একটি শিশুর আচরণ হঠাৎ বদলে গেলে আমরা কি তার নিরাপত্তা, মানসিক অবস্থা ও শারীরিক সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব, নাকি অদৃশ্য কোনো কারণের কথা বলে তার বক্তব্য ও কষ্টকে পাশ কাটিয়ে যাব? একটি শিশুর মুখ থেকে বের হওয়া অভিযোগকে অবিশ্বাস করার আগে তার পাশে দাঁড়ানো, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তার ব্যবস্থা করা কি আমাদের দায়িত্ব নয়?
আরও একটি বিষয় বারবার সামনে আসে—কোনো কোনো মাদ্রাসা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় মানুষ অনেক কিছু জানেন বলে সাংবাদিকদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে জানান। কিন্তু তাদের বক্তব্য যখন রেকর্ড করতে চাওয়া হয়, তখন তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। কেউ ভয় বা হুমকির কথা বলেন, কেউ আবার ধর্মীয় অনুভূতি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন। ফলে সাংবাদিকের কাছে অফ দ্য রেকর্ডে যে তথ্য আসে, তার সবটুকু প্রকাশ্য সংবাদে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
তাহলে কি আমরা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি নই, যেখানে মানুষ সত্য জানলেও ভয় ও সামাজিক-ধর্মীয় সংবেদনশীলতার কারণে মুখ খুলতে পারছে না? আর এই নীরবতাকে কি অপরাধ না ঘটার প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়?
সাধারণ মানুষকে নৈতিকভাবে বিভ্রান্ত করা আর ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ধ্বংস করা কোনো ধার্মিকতার কাজ হতে পারে না। এটি ইসলামের পবিত্র ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করার এক গভীর ষড়যন্ত্র। যেখানে সাধারণ মানুষের সামান্য ভুলত্রুটিকে মহাপাপ বানিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়, সেখানে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের চার দেয়ালের ভিতরের এই চরম অপরাধ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলামুখী আচরণের সামনে সবাই বধির, অন্ধ ও বোবা হয়ে যায়। জান্নাত-জাহান্নামের স্বঘোষিত রক্ষকেরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ঘটা এই অপকর্ম গোপন করতে ব্যস্ত, কারণ এতে তাদের ধর্মীয় ব্যবসার মুখোশ খুলে যায়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—অপরাধ কোনো প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঘটলে কি তার গুরুত্ব কমে যায়? ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের চার দেয়ালের ভেতরে সংঘটিত অপরাধ নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলা, নাকি ধর্মের পবিত্রতাকেই রক্ষা করার চেষ্টা? আর যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে অপরাধ প্রকাশ্যে আনা ও বিচার দাবি করাই কি প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় ও মানবিক দায়িত্ব নয়?
এই দ্বিমুখী নীতি আর ছদ্মবেশী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে এখনই কঠোর আওয়াজ তোলার সময় এসেছে। যারা ফতোয়া দিয়ে সমাজ বিভক্ত করতে পারে, কিন্তু পবিত্রতার আড়ালে শিশুদের ওপর চলা নির্যাতন বন্ধে ভূমিকা রাখে না, তাদের আসল চেহারা চিনে রাখা জরুরি। সমাজ ও রাষ্ট্রকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি এই ভণ্ডদের হাতে আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ সঁপে দেব, নাকি প্রাতিষ্ঠানিক এই পশুবৃত্তির মূল উপড়ে ফেলব?
শেষ প্রশ্নটি তাই আরও বড়—শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা কি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মতাদর্শ ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একসঙ্গে দাঁড়াতে পারব না? অপরাধী যে-ই হোক, তার বিচার দাবি করতে কি আমাদের আরও কোনো প্রমাণের অপেক্ষা করতে হবে? নাকি দুর্বল সাক্ষ্যের সুযোগ নিয়ে সত্যকে চাপা দেওয়ার সংস্কৃতিই আরও শক্তিশালী হবে?
সমসাময়িক বাস্তবতাও কি আমাদের সতর্ক করছে না? পুলিশের সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে দেশে শিশুধর্ষণের ১ হাজার ৪৮৫টি মামলা হয়েছে; ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৯৮। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। ২০২৫ সালেও শিশুধর্ষণের ১ হাজার ৮৯৭টি মামলা হয়েছিল। তাহলে প্রশ্ন—এই ভয়াবহ বাস্তবতার পরও শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিয়ে আমরা কতটা সোচ্চার?
আরও উদ্বেগের বিষয়, ২০২৫ সালের প্রকাশিত সংবাদভিত্তিক একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৩০৮টি শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনার মধ্যে ১৪.৬১ শতাংশ ঘটনায় শিক্ষক বা ধর্মীয় শিক্ষকের সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। তাহলে ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা কি আরও জরুরি নয়?
সাভারের অভিযোগটি এখন তদন্তাধীন। যদিও ইতিমধ্যে এই ঘটনায় শিক্ষক ছাত্র সহ পাঁচজনকে গ্রেফতারের কথা পুলিশ জানিয়েছে। তারপরও অভিযোগের প্রতিটি দিকের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের। কিন্তু তদন্তের দাবি তোলা, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা না দেওয়া এবং অপরাধী যে-ই হোক তার বিচার দাবি করা, অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আগেই সচেতনতা সৃষ্টি করা, পবিত্র স্থানের পবিত্রতা রক্ষার জন্য কি আমাদের আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করতে হবে?
