কাওছার ইকবাল: মৌলভীবাজারের কৃতি সন্তান, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, কবি ও সমাজসেবক কবি শহীদ সাগ্নিক (প্রকৃত নাম: আব্দুস শহীদ) আজ জীবনযুদ্ধে কঠিন সময় পার করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রায় এক বছর ধরে শয্যাশায়ী। তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের ব্যয় বহন করা বর্তমানে পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
১৯৪৮ সালের ১২ জানুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ সাগ্নিক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি কবিতা ও সাহিত্যচর্চায় যুক্ত ছিলেন। তাঁর একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন জনহিতকর কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছেন।
১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে শমসেরনগর রামচিজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০০৫ সালে গুঞ্জরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির জেলা আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন এবং শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।
১৯৬৫ সালে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর সংস্পর্শে এসে প্রগতিশীল চিন্তা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজসেবায় তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান।
জীবনের শেষপ্রান্তে এসে সেই মানুষটিই আজ অসহায়। ২০২৪ সাল থেকে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তিনি। ২০২৫ সালে তাঁর একটি অস্ত্রোপচারও হয়। পরবর্তীতে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। বর্তমানে প্রায় এক বছর ধরে তিনি শয্যাশায়ী।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় নিজের সম্পদ বিক্রি করে দুই ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে তাঁরা সেখানে প্রত্যাশিত কাজের সুযোগ না পেয়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন। চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যয়ের কারণে এরই মধ্যে পরিবারের সঞ্চয়ও প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
জীবনভর অন্যদের শিক্ষা দিয়েছেন, সমাজের কল্যাণে কাজ করেছেন, শিক্ষকদের অধিকার ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—আজ সেই সম্মানিত শিক্ষকই নিজের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারছেন না। তাঁর এই কঠিন সময়ে প্রয়োজন আমাদের সম্মিলিত মানবিক সহযোগিতা।
তিনি আমাদেরই একজন সম্মানিত শিক্ষক, মৌলভীবাজারের একজন স্বনামধন্য কবি ও লেখক।
জীবনযুদ্ধে কেউ কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়েন, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা তাঁকে আবারও লড়াই করার শক্তি দিতে পারে। কবি শহীদ সাগ্নিক আজ আমাদের কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছেন।
তাঁর সাবেক ছাত্র-ছাত্রী, সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষক সমাজ, সাহিত্যপ্রেমী এবং সমাজের হৃদয়বান ও সামর্থ্যবান সকল মানুষের প্রতি বিনীত অনুরোধ—নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।
আপনার সামান্য সহযোগিতাও তাঁর চিকিৎসার জন্য বড় সহায়তা হতে পারে।
বিকাশ (ব্যক্তিগত):
মোঃ সিকান্দর আলী
০১৮৮৬২৬৩০২২
আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় শিক্ষক ও কবি শহীদ সাগ্নিকের পাশে দাঁড়াই এবং তাঁর চিকিৎসার পথকে কিছুটা হলেও সহজ করে তুলি।
“সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।”
