ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে ২০ মাস বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মরম আলী (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাবনগাঁও গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মরম আলী ওই গ্রামের মৃত হবিবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে বাবনগাঁও গ্রামের তাজুল ইসলামের ২০ মাস বয়সী মেয়ে তাবাসুম জান্নাতকে তার বসতঘরে নিয়ে যায় মরম আলী। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে একটি চৌকির ওপর শিশুটিকে শুইয়ে তার পরনের কাপড় খুলে ধর্ষণ করে সে।
এ সময় শিশুটির মা ঝুমা আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে মরম আলীকে শিশুটির ওপর নির্যাতন করতে দেখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি চিৎকার শুরু করলে মরম আলী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এজাহারে বলা হয়েছে, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটিকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট ছাতক থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২৪। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছাতক থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. সালাউদ্দিন মোল্লা।
মামলা দায়েরের পর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার রাতে ছাতক থানার একাধিক কর্মকর্তা ও সদস্যের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে বাবনগাঁও গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মরম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০ মাস বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মরম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে, এত অল্প বয়সী শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির অপরাধ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি আইনগতভাবে প্রযোজ্য।
